কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:২৩ পিএম
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে আবারও ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি এলাকার ৩৬ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে গুলি বর্ষণের শব্দ শুনতে পেয়েছে সীমান্তের বাসিন্দারা।
ঘুমধুমের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম। তিনি জানান, সন্ধ্যায় তার ওয়ার্ডের বাইশফাঁড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে আকস্মিক ভেসে আসতে শুরু করে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ। এ সময় আধা ঘণ্টাব্যাপী ২ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসার সময় কেউ কেউ নিজবাড়িতে নিরাপদে অবস্থান নেন। অনেকে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় রাত জেগে কাটিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এমন শব্দ অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্তের নিয়ন্ত্রণে থাকা আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের বিষয়ে স্থানীয় এই ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, ‘রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আরসা, আরএসও ও ইসলামী মাহাসসহ রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে আরাকান আর্মির মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখনও সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলমান রয়েছে। এতে স্থানীয়রা ধারণা করছেন সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে সক্রিয় আরএসওর সঙ্গে আরাকান আর্মির গোলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘গোলাগুলির ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে তবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
এদিকে মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার অভ্যন্তরে সংঘটিত গোলাগুলির শব্দ শোনার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন, বিজিবির কক্সবাজার ৩৪-ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম খায়রুল আলম। তিনি বলেন, রাতে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসার খবরটি শুনে সীমান্ত পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাতের জেরে ঘটতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সীমান্তের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে লে. কর্নেল খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তে বিজিবির সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এপারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনীকে যুদ্ধে হটানোর পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তরের পুরো সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারে আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছে আরসা ও আরএসওসহ রোহিঙ্গাদের আরও কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের বিবাদমান এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিকবার সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে, সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের পাশাপাশি উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।