মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৪২ এএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১১:১২ এএম
লেপ তৈরি করছেন কারিগর। ছবি : প্রবা
দুই দিন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ফলে বাড়তে শুরু করেছে শীত। মানিকগঞ্জেও বেড়েছে শীতের প্রকোপ। আর সেই সঙ্গে বেড়েছে লেপ-তোশকের বিক্রি।
শীতের শুরু থেকেই লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তবে তুলা, লেপের কাপড়, মজুরিসহ এসব পণ্যে গত বছরের তুলনায় খরচ কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ পৌর শহরের বেওথা, দুধবাজার, পোড়রা, জয়রা এলাকায় অর্ধশতাধিক লেপ-তোশকের দোকান রয়েছে। শীত মৌসুমে ব্যবসায়ীরা তৈরি করে রাখা লেপ-তোশক বিক্রি করছেন।
রেখা বেডিং স্টোরের মালিক মহর আলী বলেন, ‘প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি করে লেপ তৈরির অর্ডার পাচ্ছি। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অর্ডার পাওয়া যাবে। এখন অল্প দামে কম্বল পাওয়া যায়, এ কারণে লেপ বিক্রি অনেকাংশে কমে গেছে। আগে শীত মৌসুমে ৭০০ থেকে ৮০০ লেপের অর্ডার পেতাম, এখন ৪০০ থেকে ৫০০ লেপের অর্ডার পাব বলে আশা করছি।’
ইসমাইল বেডিংয়ের মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কমে গেছে লেপ-তোশক, জাজিমসহ অন্য জিনিসের বিক্রি। কাঁচামালের দাম বাড়ায় লেপ-তোশকের দাম কিছুটা বেড়েছে। একটি চার হাত পাঁচ হাত লেপ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাঁচ হাত সাত হাত লেপ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছি।’
লেপ-তোশকের দোকান। ছবি : প্রবা
লেপ তৈরির কারিগর শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাসখানেক ধরে চলছে লেপ বানানোর কাজ, যা শীতজুড়ে চলবে। কাঁচামাল ও মজুরি মিলিয়ে এক একটি লেপের খরচ পড়ে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। তুলার ধরন ও কাপড়ের মান অনুযায়ী লেপ বানানোর খরচ কিছুটা কমবেশি হয়।’
তোরাপ আলী নামে এক কারিগর বলেন, ‘নভেম্বর ও ডিসেম্বর এ দুই মাসে লেপ-তোশক অন্য সময়ের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মহাজন প্রতিটি লেপ তৈরির জন্য ৪৫০ থেকে ৫০০ এবং জাজিম তৈরির জন্য ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দেন। শীতের প্রভাব শুরু হওয়ায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। শীত যত পড়বে আমাদের বিক্রি তত বাড়বে বলে আশা করছি।’
একটি বেসরকারি কোম্পানির মানিকগঞ্জ টেরিটরি সেলস ম্যানেজার আলী ইব্রাহিম বলেন, ‘শীত বেড়ে গেছে, তাই লেপের অর্ডার দিতে এসেছি। কিন্তু এবার লেপের দাম আগের বারের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। সিঙ্গেল একটি লেপ আগে বিক্রি হতো হাজার টাকায় এবার এটির দাম ১ হাজার ২০০।’