বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:২৯ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রবাহমান সরকারি খালের দুই মুখ আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে এবং স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতার নাম সৈয়দ টুটুল হোসেন, তিনি বোয়ালমারী উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাতৈর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বারাশিয়া নদী। এ নদীর ঘোষপুর ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া স্লুইসগেট সংলগ্ন ঝাউবন এলাকা থেকে বালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে। যা স্থানীয় ভাবে বারাশিয়া-বালিয়াপাড়া খাল নামে পরিচিত। এই খালের এক কিলোমিটার জায়গা দুই মুখে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন বিএনপি নেতা টুটুল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামে বারাশিয়া নদী থেকে উৎপন্ন বারাশিয়া-বালিয়াপাড়া খালের দুই মুখে বাঁশ, বানা ও মশারি জাল দিয়ে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন টুটুল হোসেন। একই সঙ্গে স্লুইসগেটের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে খালের পানি মাঠে জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। সময়মতো চাষাবাদ করতে পারছেন না তারা, নষ্ট হচ্ছে মৌসুমি ফসল। অভিযোগ উঠেছে, টুটুল হোসেন খাল থেকে কেউ মাছ ধরলে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। এতে আতঙ্কে পড়েছেন স্থানীয় জেলে ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
বালিয়াপাড়া গ্রামের পরশ উল্লাহ বলেন, আগে খাল থেকে মাছ ধরতাম, কিন্তু এ বছর টুটুলের ভয়েই খালে নামতে পারছি না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, টুটুলের লোকজন বলছে মাছ ধরলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
মৎস্যজীবী বিপ্লব বলেন, বর্ষার মৌসুমে আমরা খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা চালাই। কিন্তু এ বছর টুটুল হোসেন মাছ চাষ করায় খালে নামতে পারছি না। টুটুল হোসেনের ভয়েই কিছু বলতে পারি না।
কৃষক মুক্তার খালাসি বলেন, আমার জমির ধান পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে। স্লুইসগেট খুলে দিলে পানি নেমে যেত, কিন্তু মাছ চাষের জন্য স্লুইসগেট বন্ধ করে রেখেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সৈয়দ টুটুল হোসেন বলেন, এটা বদ্ধ পরিত্যক্ত খাল। গ্রামের লোকজন মিলে কচুরিপানা পরিষ্কার করে মাছ ছেড়েছি। তাছাড়া তেমন কিছু না।
বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মীর লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি ঢাকায় আছি, এলাকায় ফিরে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী হাকিম তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, অচিরেই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।