পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:২১ পিএম
রংপুরের পীরগঞ্জে দাদিকে হত্যার অভিযোগে নাতি অনিক হাসান হৃদয়কে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হৃদয় পীরগঞ্জের বড়ঘোলা গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে বড়মজিদপুরের রফিকুলের পরিত্যক্ত রাইচ মিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, বড়ঘোলা গ্রামে স্বামী-স্ত্রী দুজনে পৃথক ঘরে রাত্রীযাপন করত। শনিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে নিহতের স্বামী আব্দুল হাকিম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাহিরে আসলে স্ত্রীর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। তিনি ঘরের ভেতর গিয়ে খাটের ওপরে স্ত্রী গলা কাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। এ সময় প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দুই ছেলে রাশেদুল ও শাহিন ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
নিহতের ছেলে রাশেদুল ও শাহিন জানান, তারা রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা। ৮/১০ বছর আগে বড় মজিদপুরে পৃথক বাড়ি নির্মাণ করে বাবা-মা সেখানে বসবাস করেন। আমরা বাস্তুভিটা বড়ঘোলায় দুই ভাই বসবাস করি। কারও সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। বাবা-মা ছাড়া ওই বাড়িতে কেউ থাকে না।
পীরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হৃদয় নিহত আকলিমা বেগমের নাতি। বড় ছেলে রাশেদুল ইসলামের ছেলে। হৃদয় শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকা থেকে খেজমতপুরে যান। রাতেই দাদা-দাদির গ্রামে আসে। দাদি আকলিমার সঙ্গে রাতের খাবারের পর কথাবার্তা বলছিলেন। এক পর্যায়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লে দাদিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, শনিবার ভোর রাতে উপজেলার বড়মজিদপুর থেকে আকলিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বৃদ্ধা ওই গ্রামের আব্দুল হাকিম মিয়ার স্ত্রী। ওই দিনই অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহতের ভাই রায়পুর ইউপির নখারপাড়ার ওবায়দুল হত্যা মামলা রুজু করেন।