চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১৮ এএম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের খেতে ব্যাপকভাবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। মাজরা পোকা দমনে ব্যর্থ কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কয়েক দফায় কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছেনা সুফল। পোকা দমনে মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা পাচ্ছেন না বলে কৃষকদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে অভিযোগ।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী, সোনাপুর, চাঁন্দকরা, উল্লাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ জমির আমন ধানের গাছে ব্যাপকভাবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। মাজরা পোকার আক্রমণের কারণে অধিকাংশ ধানগাছের পাতা মরে হলুদ রং ধারণ করেছে। কোনো কোনো জমির বিভিন্ন অংশের ধানগাছ গুচ্ছাকারে প্রায় পাতাশূন্য হয়ে মরে যাচ্ছে। মাজরা দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন কোম্পানির কয়েক ধরনের কীটনাশক এক সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করেও কোনো ধরনের সুফল পাচ্ছেন না।
পাটানন্দী গ্রামের কৃষক হানিফ বলেন, এ বছর তিনি প্রায় ৭ বিঘা জমিতে কয়েক জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। গ্রামের প্রায় সকল কৃষকের জমিতে ব্যাপকভাবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। পোকা দমনের জন্য অন্তত দুই থেকে তিন বার সব কৃষক দানাদার ও তরলজাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন, কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মাজরার আক্রমণ। মাজরার আগে ধানগাছে সবুজ ঘাসফড়িং ও পাতা বাঁকানো পোকারও আক্রমণ হয়েছিল।
একই গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, চলতি মৌসুমে পোকার আক্রমনে চরম বিপদে থাকলেও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কেউ ধানের খোঁজখবর নেননি। একই অভিযোগ করে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কৃষক দ্বীন ইসলাম বলেন, তাঁদের গ্রামে ফসলের দেখভালের জন্য যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া আছে, বেশির ভাগ কৃষক তাঁকে চেনেন না। এ কারণে সঠিক নিয়ম জানেন না, পোকা দমনেও ফল পাচ্ছেন না। শুভপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জহিরুল হাসানও কৃষি অফিসারকে চিনেন না বলে জানান।
বাতিসা ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল আলম বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে সবুজ পাতা ফড়িং, এরপর পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমন দেখা যায়। এই সময়ে অধিকাংশ জমিতে কাইছ থোড় চলে এসেছে এবং মাজরা পোকার আক্রমনটা এখনই খুব বেশি দেখা দিয়েছে। কৃষকরা কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, তবে কাজ হচ্ছে না। এর জন্য বৃষ্টিও দায়ী। দেখা গেছে কীটনাশক ছিটানোর পর বৃষ্টি এসেছে, এতে করে কীটনাশকে কাজ হচ্ছে না। আবার সঠিক পদ্ধতিতে কীটনাশক না ছিটানোর কারণেও পোকা দমন হচ্ছেনা। যেমন চল্লিশ শতক জমিতে কীটনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে করতে হবে ৮০ লিটার পানি। কৃষক ছিটাচ্ছেন ১৬লিটারের এক অথবা দুই ড্রাম।
জমিতে পাখি বসার জন্য খুঁটি স্থাপন, আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে জমিতে পোকার ধরণ অনুযায়ী কীটনাশক নির্বাচন, ওসমানী পদ্ধতিতে বালাইনাশক স্প্রে করা অর্থাৎ সঠিক ওষুধ, সঠিক সময়, সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে স্প্রে করা, মেঘলা আবহাওয়ায় কোনো ধরনের সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করা, মাজরা পোকা আক্রমণ হলে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জোবায়ের আহমেদ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মাজরা পোকার আক্রমণ অনেক বেশি। বিশেষ করে উপজেলার দক্ষিণের ইউনিয়ন গুলোতে। বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কেন পোকা দমন হচ্ছেনা এটা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। আমরা প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে পোকা দমনে আলোকপাত ও নিয়মিত গ্রুপ মিটিং করছি। যদি কোনো ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।