বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১৪ পিএম
পাবনার সাঁথিয়ায় জনতা ব্যাংক পিএলসি বনগ্রাম শাখার গ্রাহকদের ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বনগ্রাম শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফরিদুজ্জামানের দায়ের করা মামলায় পুলিশ হেমায়েত করিমকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এছাড়া অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত হেমায়েত করিমকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তারের খবরে ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (১৯ অক্টোবর) ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভীড় জমে। প্রায় শতাধিক গ্রাহক ব্যাংকে এসে তাদের অ্যাকাউন্ট যাচাই করে জানতে পারে অ্যাকাউন্টে জমানো অর্থ নেই। এ সময় টাকা খোয়া যাওয়ায় ব্যাংকে গ্রাহকদের কান্নার রোল পড়ে যায়।
ব্যাংক ও গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিম দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে গ্রাহকদের ৯ কোটি টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না করে আত্মসাত করেছেন। গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) বনগ্রামের ব্যবসায়ী উপজেলার সাগরদারী গ্রামের আব্দুস সালাম ব্যাপারী জনতা ব্যাংকের ওই শাখায় টাকা তুলতে যান। তার হিসাবে টাকা নেই বলে ব্যাংক হিসাবরক্ষক জানালে তাদের মধ্যে বাগবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে আব্দুস সালামের চিৎকারে আশপাশের গ্রাহকরা ব্যাংকে জড়ো হয়ে তাদের হিসাব নম্বর চেক করে দেখতে পান প্রায় গ্রাহকেরই জমাকৃত টাকা কম। বিষয়টি জনতা ব্যাংক পাবনার জেলা কার্যালয়কে জানালে তারা এসে ঘটনার সত্যতা পায়। এ নিয়ে রাতভর যাচাই- বাছাই করে অভিযুক্ত হেমায়েত করিমকে পুলিশ হেফাজতে দেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে মো.ফরিদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।ওই দিনই ব্যবস্থাপক ফরিদুজ্জামান বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় পূর্বের ব্যবস্থাপক হেমায়েত করিমের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী বনগ্রামের ব্যবসায়ী তনয় সাহা জানান, তার সিসি লোনের ৪৯ লাখ টাকা হিসাব থেকে উধাও। তিনি আরও জানান, টাকা হিসাব থেকে তুলে নেবার পূর্বে মোবাইলের ম্যাসেজ অবশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাগরদারি গ্রামের সালাম ব্যাপারী জানান, আমি গরুর ব্যবসা করি। ব্যবসার সব টাকা জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখায় রেখেছিলাম। গত বুধবার দুপুরে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে দেখি আমার হিসাব থেকে ৪১ লাখ টাকা নেই। তিনি টাকার শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
খালইভড়া গ্রামের শাপলা খাতুনের ১৬ লাখ টাকার জমা রশিদ দিলেও ওই টাকা হিসাব নম্বরে জমা হয়নি। ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুনসুর আলমের হিসাব থেকে ১০ লাখ টাকা ঊধাও। এভাবে অনেক গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন উপায়ে আত্মসাত করা হয়েছে।
বনগ্রাম জনতা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত হেমায়েত করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিভাগীয় তদন্ত চলছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনতা ব্যাংক পাবনা শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মঞ্জুরুল হক জানান, বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং ঢাকা হেড অফিস থেকে কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। অভিযুক্ত ম্যানেজার বর্তমানে জেল হাজতে আছেন।
আতাইকুলা থানার ওসি সৈয়দ আলমগীর হোসেন বলেন, জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফরিদুজ্জামানের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বনগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিমকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পাবনা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।