নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:০৮ পিএম
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আমন ক্ষেতে হানা দিয়েছে ইঁদুর। কেটে সাবাড় করছে কৃষকদের সোনালি ফসল। সনাতনী পদ্ধতি ব্যবহারসহ কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ইঁদুর। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ে চরম হতাশায় রয়েছেন কৃষকরা।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার পৌর শহরের কান্দিউড়া, ওয়াশেরপুর, কমলপুর, চন্দগাতীসহ কয়েকটি গ্রাম হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এরই মধ্যে আমন ক্ষেতে প্রায় সব ধানগাছ থোর হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেতে ফুটেছে ধানের ফুল। আবার আগাম রোপণ করা কিছু জমির ধান সোনালি আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় ধানক্ষেতে দলবেঁধে হানা দিচ্ছে ইঁদুর। ধানক্ষেতের প্রায় জায়গাতেই ধানগাছ মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইঁদুর ধানগাছের গোড়া কেটে দেওয়ায় গাছগুলো মরে শুকিয়ে গেছে।
কান্দিউড়া গ্রামের কৃষক হাদিছ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, ফারুক মিয়া, মাসুম ভূঁইয়া, আবুল মিয়া, চন্দগাতী গ্রামের আজিজুল হক, কমলপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়া, ওয়াশেরপুর গ্রামের আরশ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আমিন খানের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অনেক বড় বড় ইঁদুর রাতের বেলায় ক্ষেতে হানা দেয়। ধানগাছ মাত্র থোর হতে শুরু করেছে। এমন সময় ইঁদুর দলবেঁধে ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে। ফলে সকাল বেলায় দেখা যায় গাছগুলো নেতিয়ে পড়ে মরে যাচ্ছে। এখনই ইঁদুর দমন করতে না পারলে ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে না। ক্ষেতগুলোর মাঝেমধ্যেই ইঁদুরে কাটার ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
তারা আরো জানান, ইঁদুর তাড়াতে বিভিন্ন শব্দ করে, ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি পুঁতে রঙিন কাগজ টাঙিয়ে চেষ্টা করেও ইঁদুর তাড়ানো যাচ্ছে না। কৃষি অফিসের লোকজনের পরামর্শে ক্ষেতে ইঁদুর মারার বিষ দিয়েও ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন দিলদার বলেন, আমন ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রত্যেক এলাকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। এ জন্য কৃষকদের ক্ষেতে ইঁদুরের ফাঁদ ও বাঁশের চুঙি ব্যবহারসহ ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। তারপরও ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ না হলে কৃষকদের কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। অবশ্য আমরাও নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি।
কৃষকরা জানান, আমাদের নীতিবাক্য শুনিয়ে লাভ নেই; কেমনে কার্যকরী পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে তা জানালে খুশি হবো।