কর্মবিরতিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪২ পিএম
বর্ধিত ট্যারিফ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী এক সপ্তাহ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টায় কাস্টমস ভবন চত্ত্বরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমাদের এই কর্মবিরতি হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির ঘোষণার পর আজ থেকে ২০ দিন আগে আমদানি রপ্তানিকারকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এরপর তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাবি-দাওয়া জানিয়ে আসছেন। প্রধান উপদেষ্টাকে ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার জন্য চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুসংবাদ আসেনি। তাই তারা গতকাল পোর্ট ইউজার্স ফোরামের পক্ষ কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। ওই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আজ সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছি। উদ্বুত পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আগামী এক সপ্তাহ আমরা এভাবে প্রতিদিন চার ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করবো।
এদিকে ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ির গেইট পাসের ফি বৃদ্ধির ঘটনায় গতকালের মতো আজও নিজেদের গাড়ি চালাচ্ছেন না প্রাইম মুভার, ট্রেইলার মালিকরা। একই দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতি। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দুপুরে বৈঠক করার কথা রয়েছে বন্দর চেয়ারম্যানের।
চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মালিক যদি শ্রমিকের ওপর নির্যাতন চালায় সেখানে শ্রমিক কাজ করতে চাইবে না। আমরাও এখন এই অবস্থায় আছি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বন্দরের এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির একটি সুষ্ঠু সমাধান না হলে আমরা গাড়ি চালাব না। এটি যতদিন সমাধান হবে ততদিন আমাদের গাড়ি বন্ধ থাকবে।
ফি বৃদ্ধির বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলেন, আমরা বন্দর ব্যবহারকারী। আমি কেন বন্দরে ফি দিয়ে প্রবেশ করবো। আমি তো বন্দরেরই অংশ। বন্দরের কর্মকর্তারা বন্দরে প্রবেশ না করতে পারলে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। আমরা বন্দরে প্রবেশ করতে না পারলে কন্টেইনার ডেলিভারি হবে না। তাহলে আমরা কেন টাকা দিয়ে প্রবেশ করবো।
তারা আরও বলেন, সিঅ্যান্ডএফ'র প্রতিনিধি প্রবেশে এবং যানবাহন প্রবেশে পেমেন্ট চালু করা হয়েছিল শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু এই খাতকে এখন বন্দর লাভের অংশ হিসেবে দেখতে চাইছে। একটি বাইকের পেছনে একজন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির ৩ হাজার টাকা মাসে খরচ হয়। তাহলে সে চলবে কিভাবে?