× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লালন স্মরণোৎসব

আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময়

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৪৩ এএম

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৪৯ এএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শুক্রবার রাতে ছেঁউড়িয়ায় লালন একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ছবি : পিআইডি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শুক্রবার রাতে ছেঁউড়িয়ায় লালন একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ছবি : পিআইডি

‘আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময়/পারে লয়ে যাও আমায়, আমি একা রইলাম ঘাটে/ভানু সে বসিল পাটে’Ñ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রবীণ বাউল শফিউল শাহ একতারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একমনে গেয়ে চলেছেন মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের গান। তবে গান নয়, তার কণ্ঠে যেন বিলাপ ঝরে পড়ছে। তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব শেষ হচ্ছে, বাজছে বিদায়ের ঘণ্টা। তাই হয়তো লালনভক্তের গলা থেকে ঝরছে এমন বিষাদ।

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত তিন দিনের উৎসবের শেষদিন আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর)। গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এ উৎসব শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে দই ও চিড়ার বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবা (মধ্যাহ্নভোজ-এক পদের মাছ, ৫ রকমের সবজির তরকারি, ডাল, ভাত ও দই) গ্রহণের পর মূলত বাউলরা আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করেন। এবারের তিথি অনুযায়ী শনিবার দুপুরে পূর্ণসেবা গ্রহণ করেন বাউল সাধুগুরুরা। তবে লালন একাডেমি আয়োজিত উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে আজ রবিবার।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন সাঁই দেহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তার অনুসারী ভক্ত বাউল সাধকরা এদিনটিকে লালন স্মরণোৎসব হিসেবে পালন শুরু করেন। সেই ধারা আজও ধরে রেখেছেন তার অনুসারী বাউল-বৈষ্ণবরা। 

‘চাতক পাখির এমনি ধারা, তৃষ্ণায় জীবন যায় গো মারা। অন্য বারি খায় না তারা, মেঘের জল বিনে’ ফকির লালন সাঁইয়ের এই গানে যেমন চাতক পাখির একাগ্রতা ফুটে উঠেছে তার তিরোধান দিবসের উৎসবে আসা সহজ মানুষ বাউলদের মধ্যেও তেমনি ধৈর্য ও একাগ্রতার চিত্র চোখে পড়ে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে আখড়াবাড়িতে আসা বাউলদের পূর্ণসেবা পরিবেশন করা হয়। হাজার হাজার বাউলকে খাবার পরিবেশন সম্পন্ন করতে প্রায় বিকাল গড়িয়ে যায়। সবার পাতে খাবার পৌঁছানো নিশ্চিতের পর সবাই একসঙ্গে খাবার মুখে তোলেন। 

লালন আখড়াবাড়ি তাদের কাছে পরম ভক্তির তীর্থস্থান। উৎসব শেষে বাড়ি ফেরার সময় তাই তাদের কণ্ঠে বিষাদের সুর বেজে ওঠে। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা প্রবীণ বাউল আলম শাহের কাছে বিদায়বেলার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, ‘সাঁইজির চরণ তলে কটা দিন পড়েছিলাম। এখন বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে, কিন্তু মন তো চাইছে না বাড়ি ফিরতে। আরও কটা দিন থেকে যেতে পারলে ভালো হতো, মনটা কেমন করছে, আর যদি আসতে না পারি কোনোদিন।’ আরেক বাউল বলাই শাহ বলেন, ‘ফিরতে মন চাইছে না, ভাবছি আরও কটা দিন গুরু ধামে থেকে যাব।’ 

মহিলা বাউল করিমন খাতুন বলেন, ‘বাড়ি ফিরে যাচ্ছি ঠিকই, মনটা পড়ে রইল আখড়াবাড়িতে। এখন থেকেই ফালগুনের দোল উৎসবের প্রহর গুনতে থাকব।’ 

এখানে আগত বাউলরা ভাবপরম্পরা বিনিময় করেন আপন মনে, নিজস্ব রীতিতে। গুরুবাদী এ ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে গুরুই সব। গুরুর নির্দেশিত পথে সাধন-ভজন এবং রসাস্বাদনের সব পথই উন্মুক্ত। আর এই যজ্ঞ সম্পাদনের মধ্য দিয়েই সীমার মাঝে অসীম খুঁজে ফেরে এই মতে বিশ্বাসীরা।

লালনের গানের মানবতার বাণী আজও প্রাসঙ্গিক : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

এদিকে শুক্রবার রাতে লালন একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতীয় পর্যায়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লালনের গান শুধুই সুর নয়, তা অত্যন্ত উচ্চমাত্রার সংগীত; যার মধ্যে রয়েছে গভীর দার্শনিক, রাজনৈতিক এবং সর্বোপরি মানবিক মূল্য। তার গানে যে মানবতার কথা বলা হয়েছে, তা আজকের পৃথিবীতেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি আরও বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সরকার মনে করে, লালনের দর্শন এবং অবদান শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখার নয়। ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, লালনের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ থাকবে না। কারণ লালন কোনো দলীয় আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তিনি মানবতার প্রতীক।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, লেখক ও গবেষক প্রফেসর গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ. আল মামুন। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা