× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নেই নিরাপত্তা, নেই প্রস্তুতি অগ্নিঝুঁকিতে নারায়ণগঞ্জ

এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম

নেই নিরাপত্তা, নেই প্রস্তুতি অগ্নিঝুঁকিতে নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। অগ্নিনির্বাপণ আইন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠেছে এসব স্থাপনা। ছয় তলার ওপরে তিন স্তরের স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বেশিরভাগ ভবনেই তা নেই। সরু রাস্তা, পানির উৎসের অভাব এবং জরুরি বহির্গমন সিঁড়ির অনুপস্থিতির কারণে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও সম্পদহানির আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। শীতকাল সামনে রেখে এই পরিস্থিতিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বুধবার সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে আবাসিক ভবনে নির্মিত অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো। আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে নিষেধ থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। বহুতল ভবনে একাধিক সিঁড়ি স্থাপনের বিধিমালা থাকলেও তা মানে না ভবন মালিকরা। ওই সব আবাসিক বহুতল ভবনগুলোকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরিত করা হলেও বেশিরভাগ বহুতল ভবনে নেই অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম।

শহরের চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় তিনটি বহুতল আবাসিক ভবনে স্থাপন করা হয়েছে রেস্তোরাঁ। এর মধ্যে শ্রম অফিসের পাশের বহুতল একটি ভবনের পুরোটাই রেস্তোরাঁ ভবনে রূপ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রেস্তোরাঁ যেন কাঁচের বাক্সে বন্দি। একটি মাত্র সিঁড়ি ও লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই ভবনে।

সুলতান ডাইন, ডাইনিং লাউঞ্জের মতো অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো চলছে ঝুঁকি মাথায় নিয়েই। আট তলা এই ভবনের পাশেই অবস্থিত দশ তলা ভবনের নিচের তিনটি ফ্লোরে স্থাপন করা হয়েছে রেস্তোরাঁ। ওপরে আবাসিক ভবন এবং নিচে বাণিজ্যিক স্থাপনা।

কাচ্চি ভাই, সিরাজ চুইগোস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক ভবন এড়িয়ে ফ্লোর ভাড়া নিয়েছেন আবাসিক ভবনে। একই ভবনের পঞ্চম তলায় রয়েছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভাষাসৈনিক সড়কের শেষ প্রান্তে সাত তলা একটি ভবনকে রেস্তোরাঁ ভবনের আদল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে তিনটি ফ্লোর ভাড়া নিয়েছে চিলক্স, পিজ্জাবার্গের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু এই ভবনটিতেও একটি মাত্র সিঁড়ি এবং লিফট রয়েছে। অগ্নিঝুঁকিতে থাকলেও এসব দেখেও যেন না দেখার ভান করে থাকে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলো। কেবল ট্রেড লাইসেন্সেই চলছে ব্যবসা।

এদিকে নগরীর আমলাপাড়া, চাষাঢ়া, খানপুর, কালিরবাজার, উকিলপাড়া, গলাচিপা, নয়ামাটি ও টানবাজার এলাকার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কিছু মার্কেটের সড়কগুলো এত সরু ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া আগুন নেভানোর জন্য পানির কোনো উৎসও নেই। অথচ এসব মার্কেটে ইলেকট্রনিক্স, কাপড়, জুতা, কসমেটিকস এবং নানা ধরনের পণ্য সামগ্রীর প্রায় দুই হাজারের অধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে বেশিরভাগ মার্কেটের দ্বিতীয় তলা থেকে ওপরের দিকে গুদাম এবং কোনো কোনো ভবনের ওপরের অংশ আবাসিক হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। অনেক মার্কেট ও ভবনগুলোর গা ছুঁয়েই বিদ্যুতের তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কোনো কারণে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এসব মার্কেটে আগুন লাগলে বিপুল পরিমাণ সম্পদহানির আশঙ্কা রয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার আইনে ছয় তলার ওপরে আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে যদি ভবনের বাসিন্দা ৫০০ জনের মধ্যে হয় তাহলে দুটি সিঁড়ি থাকতে হবে। এ ছাড়া এক হাজার জনের মধ্যে হলে তিনটি সিঁড়ি এবং এই সংখ্যা বেশি হলে অবশ্যই চারটি সিঁড়ি থাকতে হবে। অন্যদিকে ছয় তলার ওপরে প্রতিটি ফ্লোরের জন্য লিফট আকারের ফায়ার সেফটি লবি ভবনের নিচে ১ লাখ গ্যালন (সাড়ে ৪ লাখ লিটার) এবং ভবনের ওপরে ৫০ হাজার গ্যালন (২ লাখ ২৫ হাজার লিটার) পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া আইনে অগ্নি নির্বাপনে ফায়ার এক্সটিংগুইসার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র), হোস রিলস (পানি চলাচলের পাইপ), একটি হাইডেন কাম রাইজার, একটি ডিজেলচালিত পাম্প ও পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য জোকি মেশিন থাকতে হবে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারে কনসিল ওয়্যারিং থাকা, বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বক্স ও ডিমান্ড বক্স নিরাপদ অবস্থানে থাকা এবং স্মোক ও হিট ডিটেক্টর এবং মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মীদের নিয়মিত অগ্নি-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে আগুন লাগার প্রবণতা খুবই বেশি থাকে। বিশেষ করে বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়টিতে অগ্নি-দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। কারণ এই সময়ে আবহাওয়া খুব শুষ্ক থাকে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, নগরীর যেসব পুরনো ভবন রয়েছে সেগুলোতে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া জলাধারের সংখ্যাও অত্যন্ত কম। অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এক তলায় মার্কেট, এক তলায় রেস্টুরেন্ট অথবা অন্য তলায় লোকজন বসবাস করছে। অগ্নি-দুর্ঘটনা হলে জরুরিভাবে বের হওয়ার কোনো সিঁড়িও নেই এসব ভবনে। 

বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ মাকসুদ হেলালীর মতে, ঢাকার মতো অপরিকল্পিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা পুরান নারায়ণগঞ্জের ওল্ডটাউনে। ওল্ডটাউন এরিয়া হচ্ছে, নিতাইগঞ্জ, ডালপট্টি, তামাকপট্টি, টানবাজার, নয়ামাটি, র‌্যালীবাগান, পাইকপাড়া, নিমতলা ও আশপাশ এলাকা। সংকীর্ণ রাস্তাঘাট, ঘনবসতিসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান সেখানে। এর মধ্যে জরাজীর্ণ ভবন, সংকীর্ণ রাস্তা, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ, অপর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত নাগরিক উন্মুক্ত স্থান, উচ্চ ঘনত্ব, নিম্নমানের জীবনযাপনের কারণে মারাত্মক রকম অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা