পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪২ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ২২:০০ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদের ক্ষেত্রে যদি এমন হয় তাহলে কিছুদিন পরে দেখা যাবে অভ্যূত্থানটাই নাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আবার কিছুদিন পরে দেখা যাবে এই অভ্যূত্থানের যারা যোদ্ধা ছিল, রাজপথে নেমেছিল, তাদের বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কায়দায় অভিযুক্ত করে একেকজনকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দেয়া হবে, বিভিন্নভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট এলাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ দিনের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা এই কাজগুলোই করবে, আজ থেকে ১০/১৫ বছর পর। আমাদের ওই জায়গাটা স্পষ্ট লাগবে। তখনি আমরা আমাদের এই জুলাই সনদে স্বাক্ষর বা এই কথাটা চিন্তা করব। যেহেতু অর্ন্তবর্তী সরকার আবারো দায়সারা ভাব দেখিয়েছে। এজন্য আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করিনি।
সারজিস আলম বলেন, বর্তমানে এমন একটি অবস্থা যে নামকাওয়াস্তে স্বাক্ষর করে নির্বাচনের দিকে যেতে পারলেই হলো। এতে কোনো সংস্কার হোক আর না হোক। জুলাই সনদের কোন আইনী ভিত্তি থাকুক আর নাই থাকুক। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার এসে সেটা বাস্তবায়ন করুক আর নাই করুক। তাদের কাজ কোনমতে স্বাক্ষরটা হয়ে যেতে পারলেই হলো।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে একদম স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছি। আমাদের আহবায়ক আগেই বলেছিলেন, আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি ৫ আগষ্টের পর থেকে। ঘোষণা পত্রেও ছাড় দিয়েছি। কিন্তু দেখেন ওই ঘোষণা কি?। নামকাওয়াস্তে একটা রিটেন পেপার হয়ে বসে আছে। কোন কার্যকারিতা দেখছিনা আমরা আমাদের জায়গা থেকে।
বিএনপিকে উদ্যেশে করে সারজিস বলেন, বিএনপি তাদের জায়গা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে। এগুলো এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে যেগুলোতে দেয়নি এরকম ৫০টা না হয়ে ৫টা হওয়া বেশি প্রয়োজনীয়।
সারজিস আলম বলেন, প্রথমত এই অর্ন্তবর্তী সরকার জুলাই সনদ স্বাক্ষর করবে। সেখানে এনসিপির কথা বাদই দিলাম। সেখানে তো প্রধান অতিথিদের কাতারে বা সামনের সারিতে জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবার তাদেরই থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম এটা রাজনৈতিক দলের একটা চুক্তির মত যেমন মিলনমেলা হয়। না এখানে কোন জুলাই যোদ্ধা কিংবা শহীদ পরিবারের সেভাবে কোন আসন আছে। না কোন ওরকম ব্যবস্থা আছে।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর যেভাবে আজ লাঠিচার্জ করা হয়েছে, টিয়ারশেল ছুঁড়েছে, রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। এগুলো আসলে আসলে খুবই অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক।