× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজবাড়ীতে অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি গ্রাম পুলিশ!

রাজবাড়ী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০২ পিএম

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:১০ পিএম

গ্রাম পুলিশ শহিদুলের দোতলা বাড়ি। প্রবা ফটো

গ্রাম পুলিশ শহিদুলের দোতলা বাড়ি। প্রবা ফটো

বাবার সঙ্গে চায়ের দোকান শুরু করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশের চাকরি হয়। তবে গ্রাম পুলিশের ৭ বছরের চাকরিতে শুন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন মো. শহিদুল শেখ (২৫)। বর্তমানে বিকাশ ব্যবসা, হাট-ইজারাদার, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি, ইন্টারনেট ও ডিস লাইনের ব্যবসা, গরুর খামারসহ গড়ে তুলেছেন কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন আলিসান ভবন। এ যেন আলাদিনের প্রদীপ পেয়েছেন গ্রাম পুলিশ শহিদুল ।

আর সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে তার অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক। এখন সময় না পাওয়ার অজুহাতে ইউনিয়ন পরিষদে ডিউটিও করে না। মো. শহিদুল শেখ রাজবাড়ী সদর উপজেলার সাদিপুর গ্রামের চা দোকানী শাহজাহান শেখের ছেলে ও শহীদওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রাম পুলিশ শহিদুল শেখ বেশিদুর লেখাপড়া করতে পারেনি। পাশের কুঠিরহাট বাজারে সরকারি খাস জমিতে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকান শুরু করেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালে শহীদওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশের চাকরি হয়। পরে করোনাকালীন সময়ে বিকাশ ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইন ওয়ান এক্স বেড জুয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এই জুয়ার মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নেন অর্থ। একে একে গড়ে তোলেন রাজবাড়ী জেলখানার পাশে কেমিক্যাল কারখানা, ইন্টারনেট ব্যবসা, ডিসলাইনের ব্যবসা, ৫০টি গরুর খামার, গরু হাট ইজারাসহ বিভিন্ন ব্যবসা। ৩০ লাখ টাকার কৃষি জমি কিনেছেন। পরোনো সেই চায়ের দোকান ভাড়া দিয়েছেন খোরশেদ শেখ নামে একজনের কাছে। সাদিপুর গ্রামে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন বিশাল আকৃতির ভবন।ভাই জাহিদকে ডেকোরেটরের দোকান দিয়ে দিয়েছেন। 

কুঠিরহাট-বাজারের কয়েকজন চায়ের দোকানী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সামান্য চায়ের দোকান করে এতো টাকার মালিক কিভাবে সম্ভব। আমরা চায়ের দোকান করে সংসার পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর শহিদুল কোটি টাকা খরচ করে আলিসান বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করি। 

নাম প্রকাশ না করার  শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, শহিদুলের কথামতো আমি লোভে পড়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে এখন আমি নি:স্ব প্রায়। সাড়ে তিন লাখ লাখ টাকার দেনা। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয়।  

শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ভুঁইয়া বলেন, গ্রাম পুলিশ শহিদুল শেখ দীর্ঘদিন পরিষদে আসে না, কাজও করে না। তাকে শোকজ করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

তবে শহিদুল শেখের দাবি, তিনি চায়ের দোকান থাকাবস্থায় বিকাশের ব্যবসা করতেন। করোনাকালীন সময়ে অনলাইন জুয়ার মাঠ নয়, নিজেই অনলাইন জুয়া খেলতেন। আগে থেকেই ডিসলাইনের ব্যবসা ছিল। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবসা, কেমিক্যাল ফ্যাক্টারি,গরুর হাটের ইজারা রয়েছে। ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। ৫০ লাখ টাকা খরচ করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তবে এখন অনেক টাকা দেনা রয়েছেন। তার স্ত্রী অনলাইনে কাঁথায় ব্যবসা করেন। গত ২ বছর আগে আয়কর ফাইল খুলেছেন। আগে শুন্য রিটার্ণ থাকলেও এখন কিছু টাকা দেখিয়েছি। ব্যবস্ততার কারণে গ্রাম পুলিশের ডিউটি করতে পারিনা। এখন চাকরি ছাড়তে চাই। কিভাবে ছাড়ব বুঝতে পারছি না। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শোকজ করেছিল, তার জবাব দিয়েছি। 

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা