ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রবা ফটো
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখা হচ্ছে—এর একটাই উদ্দেশ্য, যাতে নির্বাচন না হয়। তবে বিএনপি এই নির্বাচনে কোনো আপোষ করবে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের দানারহাট ঈদগাঁ মাঠে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকায় যাওয়া যায় না, বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন চলছে। এখন এই দুর্বল সরকার—মানে অন্তর্বর্তী সরকার; এর পেছনে কেউ নেই। সরকারকে নানা ইস্যুতে ব্যতিব্যস্ত করে রাখার একটাই উদ্দেশ্য, যাতে নির্বাচনটা না হয়। এই সরকারকে এত ব্যতিব্যস্ত করে রাখার কোন মানে আছে বলেন? সরকারকে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যতিব্যস্ত করে রাখার একটাই উদ্দেশ্যে যাতে নির্বাচনটা যেন না হয় তার ব্যবস্থা করা।
তিনি বলেন, জনগণ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়, জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে চায়। এই নির্বাচনে আমরা কোনো আপোষ করবো না, জনগণও কোন আপোষ করবে না। যারা পিআর নিয়ে কথা বলছে, তারা আসলে নির্বাচনকে জটিল করতে চায়। আসুন, আগে সঠিকভাবে নির্বাচনটা হোক। মানুষ যাকে ভোট দেবে, সে সরকার গঠন করবে। আর বাকি সবাইকে নিয়ে আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবো।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শিক্ষকরা আন্দোলন করছে। আমরা বলেছি, শুধু শিক্ষক নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকেই জাতীয়করণ করবো। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবো। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং আপনারা সমান অধিকার ভোগ করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রতিষ্ঠা করবো। এখনই আলাপ করছিলাম- ভুট্টা নাকি ইন্ডিয়া থেকে নিয়ে আসতেছে বা বাহিরে থেকে আনতেছে। আমার কৃষকরা ভুট্টার দাম পাচ্ছে না আর সরকার ভুট্টা বাহিরে থেকে নিয়ে আসতেছে। এটা অন্তর্বর্তী সরকার ভুল করছে। এসবের আগে কৃষকদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে, তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে। ঠিক একি ভাবে ধানের মূল্যও দিতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সারের সংকট। আমরা চাই, কৃষক যেন সঠিক সময়ে সার পায়। কেউ কথা না শুনলে ডিসি অফিস ঘেরাও করুন। আমলাতন্ত্রগিরি নয়, জনগণের কথা শুনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো। প্রত্যেক মায়ের হাতে থাকবে ফ্যামিলি কার্ড, মেয়েদের লেখাপড়া গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত বিনা খরচে হবে, বেকার সমস্যার সমাধান করবো।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এক ব্যক্তি এক ভোটে বিশ্বাস করি। নিজের ভোট নিজে দেবো—যাকে খুশি তাকে দেবো। পিআর ব্যবস্থায় দলকে ভোট দিতে হয়, কিন্তু তাতে জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ থাকে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জানতেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে তিনি জিততে পারবেন না, তাই সেটা বাতিল করেছেন। এতে নির্বাচন ব্যবস্থাই ধ্বংস হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, আগে সংবাদ যেতো না, কাটাছেঁড়া হতো। আমরা সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করবো। সাংবাদিকরা যেন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ লিখতে পারেন, সেটাই চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রফেসর ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। আমরা চাই সেই নির্বাচনটা হোক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আল্লাহ আমাদের আবার সুযোগ দিয়েছেন—নিজের ভোট নিজে দেওয়ার, নিজের সরকার গঠনের। এবার আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।
সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।