হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৫৯ পিএম
‘কৃষিই সমৃদ্ধি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি, বইতে শুরু করেছে নতুন আশার হাওয়া।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিনের জমিতে হাইব্রিড ধানীগোল্ড জাতের ধান কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কেরামত আলী, রেজুয়ানুল ইসলাম ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড ও উপসী ধান চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইমুক্ত চাষাবাদের কারণে ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। তিনি বলেন, আগাম ধান কাটার ফলে কৃষকরা দ্রুত জমি খালি করে পরবর্তী রবি মৌসুমে গম, ভুট্টা, আলু ও সবজি চাষ করতে পারবেন, যা কৃষিতে বৈচিত্র্য ও আয় বৃদ্ধি করবে।
কৃষক রইচ উদ্দিন জানান, হাইব্রিড ধানীগোল্ড জাতের ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় আগের বছরের চেয়ে ২–৩ মণ বেশি ধান পাবো বলে আশা করছি। যদি দাম ভালো পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের শীষে ভরে উঠেছে গ্রামের আঙিনা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি পরামর্শ ও নিয়মিত মাঠ তদারকির ফলে এবার আগাম জাতের আমন ধানের ফলন আশাব্যঞ্জক হয়েছে এবং কৃষকেরা এ জাতের ধান চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।