রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০৭ পিএম
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটির মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অবতরণের সময় বৃদ্ধি না করায় কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণ বন্ধ রেখেছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। ফলে বন্ধ রয়েছে বিএফডিসির রাজস্ব আদায় ও মৎস্য পরিবহন কার্যক্রম।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মাছ ধরা ও অবতরণ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে মাছ অবতরণের জন্য খুব স্বল্প সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কাপ্তাই হ্রদের দূরবর্তী এলাকা থেকে মাছবাহী নৌকা বিএফডিসির ঘাটে পৌঁছাতে দেরি হলে রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকে। এতে মাছের গুণগত মান নষ্ট হয়, অনেক সময় মাছ পঁচে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ও জেলেরা দাবি, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা এবং রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অবতরণ ঘাট খোলা রাখতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা মাছ আহরণ ও অবতরণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
কাপ্তাই হ্রদের বৃহত্তম মাছ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শুক্কুর বলেন, কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ২৬ হাজার জেলে রয়েছে। এখন আমরা যদি একেবারে মাছের ব্যবসা বন্ধ রাখি তাহলে এই ২৬ হাজার জেলের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা বিএফডিসির কাছে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা মাছ ধরা বন্ধ করেছি।
অন্যদিকে বিএফডিসি রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম বলেন, অবতরণ ঘাটে মাছ আসছে না, তবে আমাদের ল্যান্ডিং ও বরফ বিক্রি কার্যক্রম চালু রয়েছে। আমরা গত বছর থেকেই রাত ৯টা পর্যন্ত অবতরণ চালু রেখেছি, এ বছর তা বাড়িয়ে রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা রাত ১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানাচ্ছেন, যা লেকে অতিরিক্ত মাছ আহরণের ঝুঁকি তৈরি করবে। এতে কাপ্তাই হ্রদের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।