ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:০৬ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে মুয়াজ্জিন পরিবারসহ পলাতক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মা সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস (৫৫) পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকার সরকারি হাজী আসমত কলেজের পিছনে বাইতুল আমান জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন।
ভুক্তভোগী শিশুটির পৈতৃক বাড়ি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবার নিয়ে গাছতলাঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। জীবিকার তাগিদে শিশুটির বাবা ঢাকায় কাজ করেন।
শিশুটির মা জানান, গত দুইদিন ধরে শিশুটি আরবি পড়তে বাড়ির পাশে মসজিদের মক্তবে যেতে চাচ্ছিল না। এতে মায়ের সন্দেহ হলে শিশুটির মাধ্যমে জানতে পারে বেশ কয়েকদিন থেকে শিশুটিকে যৌন হয়রানি করছে মুয়াজ্জিন আব্দুল কুদ্দুস। পরে বিষয়টি শিশুটির বাবাকে জানলে তিনি ঢাকা থেকে ১৪ অক্টোবর বাড়ি এসে রাতে মসজিদ কমিটিকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে মসজিদ কমিটির সদস্যরা ১৫ অক্টোবর সকালে মুয়াজ্জিনকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করতে গেলে মসজিদ ও বাসাটি তালাবদ্ধ পায়।
এদিকে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে বাইতুল আমান জামে মসজিদের সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশুটির পরিবারের কাছে অভিযোগটি জেনে ১৫ অক্টোবর সকালে মুয়াজ্জিনকে ডাকতে গেলে মসজিদ ও মুয়াজ্জিনের বাসাটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মুয়াজ্জিন আব্দুল কুদ্দুস ১৫ বছর যাবৎ আমাদের মসজিদে মুয়াজ্জিন ও ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। গাছতলাঘাট এলাকায় প্রবাসী হীরা মিয়ার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন। আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি জেলার বাজিতপুরে। আমরা চাই মুয়াজ্জিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিচার পেতে শিশুটির পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুসকে একাধিক ফোন দিলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটি যৌন হয়রানির বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ তদারকি করছে। যদিও এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।