সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ২২:১২ পিএম
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে হঠাৎ করেই জোঁকের ভয়াবহ উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে জোঁকের বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে গবাদিপশু পালন, এমনকি শিক্ষার্থীদের চলাচলও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষেতের পাশাপাশি বাড়িঘরের ভেতরে ও আশপাশেও জোঁকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির জল বা ভেজা মাটির সংস্পর্শে এলেই ঝাঁকে ঝাঁকে জোঁক শরীরে লেগে রক্ত শোষণ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন কৃষিকাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা। ধানক্ষেত বা আর্দ্র জমিতে কাজ করতে গেলে তাদের পা, হাত, এমনকি শরীরের গোপন অংশেও জোঁক কামড়ে ধরছে। অনেক স্থানে জোঁকের ভয়ে শ্রমিকরা মাঠে নামতে অনীহা প্রকাশ করায় ফসল রোপণ ও কাটায় বিলম্ব বা নষ্ট হচ্ছে। এদিকে জোঁক তাড়াতে অনেকেই লবণ, তামাকের গুঁড়া বা জল, ডেটল মিশ্রিত পানি ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ গামবুট বা পলিথিন দিয়ে পা মুড়িয়ে মাঠে নামছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মুচারিয়া পাথার, বড়চওনা, দারিপাকা, কচুয়া, কালিয়া, মৌলভীবাজার, শ্রীপুর, বটতলীসহ প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে জোঁকের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠে বা জলাশয়ের ধারে চরাতে গেলে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার শরীরে জোঁক লেগে রক্ত শোষণ করছে। এতে পশুগুলোর দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা এমনকি ছোট পশুর ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটছে। শুধু ক্ষেত নয়, বাড়ির ভেতর-বাইরেও জোঁকের উপদ্রব বেড়েছে। স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা, জল রাখার পাত্র, কিংবা ঝোপঝাড়ে এদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
উপজেলার মুচারিয়া পাথার গ্রামের কৃষক আহাদ উল্লাহ জানান, জোঁকের উপদ্রবে ক্ষেতে খামারে কাজ করা যায় না। গরু-ছাগল মাঠে নিয়ে গেলে জোঁকে আক্রমণ করে।
পাথারপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানান, আমরা শিক্ষার্থীরা জোঁক আতংক নিয়ে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসি। রাস্তাঘাটে জোঁক আক্রমণ করে, বিদ্যালয় মাঠে জোঁকের উপদ্রব আরো বেশি থাকায় আমাদের সমাবেশ ক্লাস মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে।
আব্দুর রহিম মিয়া নামের এক কলাচাষী জানান, জোঁকের উপদ্রবের কারণে ক্ষেতে কাজ করতে পারিনা। শ্রমিকদের টাকা দিলেও জোঁকের আক্রমণের ভয়ে তারাও কাজ করতে চান না, খুব সমস্যায় আছি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জোঁক রক্ত শোষণের সময় এমন একধরনের লালা নিঃসরণ করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে কামড়ের পর ক্ষতস্থান থেকে দীর্ঘসময় রক্তপাত হতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার নিয়ন্তা বর্মন জানান, এবছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকায় জোঁকের উপদ্রব বেশি দেখা যাচ্ছে। কৃষকদের তাদের বাড়ির আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে এসব জোঁক দমন করতে পারবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. সাইদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে খুব শীঘ্রই জোঁক নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, ওষুধ সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।