বেনাপোল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩১ পিএম
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতে পাবদা মাছের রপ্তানি বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে এর বিপরীতে দেশটিতে কার্প ও সামুদ্রিক মাছের আমদানি কমেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতে পাবদা মাছের বাড়তি চাহিদাই রপ্তানি বৃদ্ধির মূল কারণ।
স্থানীয় মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মোট এক কোটি ৩৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৯০ কেজি মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যার মূল্য তিন কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৫ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পাবদা মাছের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি—মোট রপ্তানির প্রায় ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে, সার্বিক মাছ রপ্তানিতে ইলিশের অংশ ছিল প্রায় চার শতাংশ, যা মূলত দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২৩–২৪) রপ্তানি হয়েছিল ৮২ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০ কেজি মাছ, যার মূল্য ছিল দুই কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ ডলার। সেবারও রপ্তানির বড় অংশ ছিল পাবদা মাছ।
অন্যদিকে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাছ আমদানি হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ ১৮ হাজার ৭০২ কেজি, যার আমদানি মূল্য ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯০ ডলার। আগের বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল প্রায় দ্বিগুণের বেশি মাছ, যা তিন কোটি ৫৪ লাখ ৬ হাজার ৮৮২ কেজি, যার মূল্য ছিল এক কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ৩৫০ ডলার। রপ্তানি বেড়ে গেলেও উৎপাদন খরচের চাপ বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় মাছচাষিরা।
বেনাপোলের সততা ফিশ কোম্পানির মালিক খোকন বলেন, আমি ৪০ একর জলাশয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করি। এর মধ্যে পাবদা, তেলাপিয়া ও রুই জাতের মাছ বেশি চাষ করা হয়। খাদ্য, বিদ্যুৎ ও শ্রমের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এখন দুই কেজি ওজনের রুই মাছ উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ পড়ে ২৭০–২৮০ টাকা। আগে যেখানে ৩০ শতাংশ মুনাফা হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১০ শতাংশে। তিনি জানান, তার ঘের থেকে সরাসরি পাবদা মাছই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় ভারতে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় এখন পাবদা মাছের উৎপাদন বেড়েছে। এর কারণে প্রতিবেশী দেশে এর চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় চাষিরা রুই, কাতলা ও পাঙাশের বদলে পাবদা চাষে বেশি ঝুঁকছেন।
ভারতে রপ্তানিকারক বাগআঁচড়ার জনতা ফিশের মালিক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভারতের ক্রেতারা বিশেষ করে ১৫–১৬টি মাছের কেজি হওয়া ছোট আকারের পাবদাই বেশি চায়। বছরে শতকোটি টাকার বেশি পাবদা মাছ রপ্তানি করি। তবে সামুদ্রিক ও কার্পজাত মাছের আমদানি এখন কিছুটা কমে গেছে।
বেনাপোল বন্দরের কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা সজীব সাহা বলেন, ভারতে বাংলাদেশি পাবদার জনপ্রিয়তা বাড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদনও বেড়েছে। এর মধ্যে যশোর অঞ্চল এখন মাছ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত, তাই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।