কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:১০ পিএম
চতুর্থ দিনের মতো আজও চলছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন। মূল বেতনের ওপর ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার তিন দফা দাবিতে টানা অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
সেই দাবিসমূহের সাথে একাত্মতা পোষণ করে কুমিল্লায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষকরা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে নগরের টাউনহলের সামনে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি ইফতেখার আলম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে ও শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু আকমান মাসুউদ মজুমদারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষক ফেডারেশনের উপদেষ্টা এমদাদুল হক মামুন, উপদেষ্টা অধ্যাপক মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুশ শহীদ, মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি কুমিল্লা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির।
সভাপতির বক্তব্যে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি ইফতেখার আলম ভুঁইয়া বলেন, শিক্ষকরা জাতির কান্ডারি। শিক্ষকরাই সন্তানদের মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আজ আমরা শিক্ষক সমাজ ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা দীর্ঘদিনের দাবি। কেউই আমাদের দাবি মেনে নেয়নি। ঢাকায় গত ৪ দিন ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করছে, হামলার শিকার হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। সরকারকে বলবো দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিন।
মানববন্ধনে শিক্ষক ফেডারেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমদাদুল হক মামুন বলেন, যাদের আমরা পড়াশোনা শিখিয়েছি। সেই ছাত্ররাই আমাদের শিক্ষকদের ওপর হামলা করছে। শিক্ষকদের পাঞ্জাবি ছিড়ে দিচ্ছে, শার্টের কলার ধরছে, তাদের আঘাত করছে। আর শিক্ষকরা প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়াচ্ছেন। এই লজ্জা শুধু আমাদের নয়। এই লজ্জা পুরো জাতির জন্য।
তিনি বলেন, সব সরকার শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানাই অনতিবিলম্বে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগরের বিভিন্ন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধিরা।