কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৭ পিএম
বক্তব্য দিচ্ছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বি এন পির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
কুমিল্লা নগরীতে গত বছরের ৫ আগস্ট বিএনপিপন্থী আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলার চার্জশিটে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক ইশতিয়াক সরকার বিপুর নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে উদ্দেশপ্রণদিত আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও সুশীল সমাজ।
তারা জানান, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর থানায় হামলা হতে পারে- এমন খবরে নেতাকর্মীদের নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হন বিপু। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ থানায় মাইকে বক্তব্য রাখেন, যার ভিডিও ফুটেজ কোতয়ালি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ও বিভিন্ন কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও রয়েছে। রাতে বিপু জানতে পারেন আইনজীবী আবুল কালাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হত্যার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধারণকৃত ফুটেজ অবশ্যই পুলিশের কাছে আছে। ওই ফুটেজগুলো যাচাই-বাছাই করে হত্যার সময় বিপুর না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও চার্জশিটে তার নাম অনেকটা প্রতিহিংসাবশত অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।
ওই হত্যা মামলার বাদী বলেন, ‘আমি বিপু নামের কাউকে চিনি না, নামটি আমি এই প্রথম আপনার মুখেই শুনলাম।’
৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইমতিয়াজ সরকার নিপু বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর ইসতিয়াক সরকার বিপু ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়। সাথে সাথে শুরু হয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর হিসেবে বিপু নিজেকে উপস্থাপন করার সাথে সাথেই নানামুখী ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়াতে নানা কূটকৌশল করে তার নাম চার্জশিটে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। মূলত কুসিক নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই বিপুকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ‘বিপু ভাইকে আমি ৩০ বছর ধরে চিনি। তিনি পরোপকারী মানুষ। তিনি কোনও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন না। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।’
কুসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এড. কালাম হত্যা মামলায় কোনোভাবেই ইসতিয়াক সরকার বিপু জড়িত না। আমি ভিপি ওয়াসিম ভাই, নিজাম উদ্দিন কায়সার ভাই ও ইসতিয়াক সরকার বিপু ভাই একসাথে ৫ আগস্ট কোতয়ালি থানায় ছিলাম। বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে থানাকে রক্ষার জন্য তখন আমরা কাজ করছিলাম। বিপু ভাইয়ের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে বিপুর অবদান অবিস্মরণীয়। এড. হত্যা মামলার এজাহারেও বিপুর নাম ছিল না। ওই মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তারে বিপু পুলিশকে সহায়তা করেছিল। ওই আসামি রাগের বশে বিপুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিপুর মতো পরিক্ষীত রাজনীতিবিদকে জড়িয়ে যারা মামলাটিকে নষ্ট করতে চায়, তাদেরকে বর্জন করুন। বিপু ওই দুঘর্টনার সময় আমাদের সাথে কোতয়ালি থানায় ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ আছে। প্রতিহিংসার বশে তার নাম মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু বলেন, ‘বিপু ভাই স্বৈরাচার সরকারের সময় মামলা খেয়ে কারাবরণ করেন। ৫ আগস্ট যখন বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা থানায় যাচ্ছিল, তখন বিএনপির নেতৃবৃন্দ থানায় অবস্থান নিয়ে থানা রক্ষা করেন। তখন বিপু ভাই নেতাকর্মীদের সাথে ছিলেন। বিপু ভাইকে বিনা কারণে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।