রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:১১ পিএম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা ঘোষণা হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরির জন্য এখনও জায়গা নির্ধারণ করা হয় নি। উপজেলার দেড়লাখ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুইটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
উপজেলার চার ইউনিয়নে থাকা তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রও দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। কেবল নামমাত্র সেবা দিয়ে চলছে দুইটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এ কারণে হাজারো মানুষ, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নব্বইয়ের দশকের দিকে গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চামরদানী, বংশীকুন্ডা উত্তর ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে চালু করা হয় তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্র তখন গ্রামীণ নারীদের মাতৃসেবা, শিশুর টিকাদান ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জনবল সংকট ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় কেন্দ্রগুলো কার্যত অকেজো হয়ে গেছে।
২০২১ সালের দিকে মধ্যনগর সদর ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামে উদ্বোধন করা হয় দুইটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। উদ্বোধনের সময় আশার সঞ্চার হলেও এখন পর্যন্ত কোন ডাক্তার যোগদান না করায় সে আশা ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ ও আবাসন সমস্যার কারণে কোন কর্মকর্তা সেখানে যোগ দিতে চাননি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তারা জানান। শুরু থেকেই মিডওয়াইফ দিয়ে নামে মাত্র সেবা চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কিছু স্থানে মাদকসেবী ও জুয়ারিদের আড্ডা বসছে, যা স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পরিবর্তে এসব স্থাপনা এখন হয়ে উঠেছে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা সাজেদা আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমাদের গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্র অকেজো হয়ে আছে। এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, ওষুধও আসে না। ফলে আমাদের মা-বোনরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গর্ভবতী মায়েরা অনেক সময় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। অবিলম্বে জনবল ও ঔষধ সরবরাহ করে কেন্দ্রটি চালু করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।'
সম্প্রতি মধ্যনগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি হলেও এখনো জনবল নিয়োগ হয়নি। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রিফাত তারিক সিদ্দিকী অতিরিক্ত দায়িত্বে মধ্যনগরের কাজ করছেন। তিনি জানান, মধ্যনগরের দুইটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে দুজন বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস চিকিৎসকসহ ১৬ জনের জনবল থাকার কথা। তার বিপরীতে দাতিয়াপাড়া কেন্দ্রে সরকারিভাবে উন্নয়ন খাতের আওতায় ১ জন ফার্মাসিস্ট ১জন নৈশ্যপ্রহরী,১ জন আয়া এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কর্তৃক ২ জন মিডওয়াইফ কর্মরত আছেন। মধ্যনগর কেন্দ্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কর্তৃক ২ জন মিডওয়াইফ, ১ জন আয়া দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ ও জরুরি ডেলিভারি সেবাকার্যক্রম। তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র জনবল সংকটের কারণেই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, মধ্যনগর একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য আমরা অনেক আগেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।