× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফেনীতে রেল স্টেশনের স্থাপনা ভেঙে লুট, কর্তৃপক্ষ যেন ঘুমিয়ে

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩১ এএম

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩২ এএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বিলোনিয়া, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী-বিলোনিয়া রেল স্টেশন। ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এই স্টেশন শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যমই ছিল না, বরং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি পরিণত হয়েছিল একটি প্রতিরোধ দুর্গে। শতবর্ষের প্রাচীন এই স্থাপনাটি আজ অবহেলা, প্রশাসনিক গাফিলতি ও দুর্বৃত্তদের লুটপাটের কারণে ধ্বংসের মুখে। সম্প্রতি স্টেশনের পরিত্যক্ত ভবনের ইট ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা, যা শুধু অবৈধ লুট নয়, এটি ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার এক জঘন্য প্রয়াস। অথচ স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে রেলওয়ের ঐতিহ্য রক্ষায় দায়বদ্ধতাকে।

সরেজমিন জানা গেছে, বিলোনিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মজুমদার হাট ক্যাম্পের পাশে বিলোনিয়া রেল স্টেশনের স্টাফ রুম ও স্টোর রুমসহ কয়েকটি ভবনের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে এসব কক্ষের দেয়াল ভেঙে ইট লুটপাট করে নিয়ে গেছে। গত ২ অক্টোবর বিলোনিয়া শুল্ক স্টেশনের পশ্চিমে পরশুরাম পৌরসভার অর্থায়নে পাবলিক টয়লেট নির্মাণসামগ্রী ও ইট চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি অটোরিকশাসহ ৩ জনকে আটক করে বিজিবি। স্থানীয়দের অনুরোধে আটককৃত উত্তর বাউরখুমা তালুকপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়া (২২), মো. শুভ (১৮) ও আল আমিনকে (১৮) মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে রেলওয়ে স্টেশনের এসব ভবন ভাঙা ও লুটপাটের সঙ্গে বিলোনিয়ার ৫-৬ জনের একটি চক্র জড়িত, এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। 

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ফেনী বিলোনিয়া রেলপথে রেল চালু করে। ফেনী-চট্টগ্রাম ও ঢাকা যাতায়াতে বিলোনিয়ার রেলগাড়ি ফেনীর উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে হয়ে ওঠে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আশার আলো। ১৯৯৬ সালের লোকসানের অজুহাতে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিলোনিয়ার রেলগাড়ি। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত রেলওয়ের আটটি স্টেশন পরিণত হয় ভুতুড়ে ঘরে। রেললাইন ও স্টেশনের বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিলোনিয়া রণাঙ্গনের ইতিহাস এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর কোরে পড়ানো হয়। মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর ছোড়া অসংখ্য বুলেট রুখে দেয় রেল স্টেশনের ভবনগুলো। স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে এখনও লেগে আছে সেসব গুলির চিহ্ন। অমীমাংসিত মুহুরীর চরের বিরোধে ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে ৫৮ বার গুলিবিনিময় হয়। তখনও ভারতীয় বিএসএফের গুলির সামনে বিলোনিয়ার রেল স্টেশনের ভবনগুলো রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বিজিবির মজুমদার বিওপির কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. শাহজাহান জানান, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করায় মাদক পাচার বন্ধ রয়েছে। মাদক বন্ধ থাকায় মাদকসেবীরা এসব চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় নুরুল ইসলাম জানান, বিলোনিয়ার রেল স্টেশরে ভবনগুলো প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করছে। এগুলো ভেঙে লুট করে নিয়ে যাওয়া হলে ইতিহাস ধ্বংস করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লাকসাম (জিআরপি) থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, রেল যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পর এসব দেখাশোনার দায়িত্ব আমাদের নয়। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। 

ফেনী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সুজন ব্যানার্জী এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি আরেক প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেনকে ফোন ধরিয়ে দেন। প্রথমে তিনি বিলোনিয়ায় রেলওয়ের কোনো ধরনের ভবন বা স্টেশন নেই দাবি করেন। পরবর্তীতে তাকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্টেশন ও ভবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে বলেন, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা