× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাগজে আছে, বাস্তবে নেই নাচোল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:২৬ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই কোনো ভৌত অবকাঠামো। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে বারবার সদর হাসপাতালে ছুটতে গিয়ে বাড়ছে আর্থিক চাপ ও দুর্ভোগ। প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জেলা সিভিল সার্জন জানান, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে ওই তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুটিতে কোনো জনবল নেই। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোল অঞ্চলটি ‘উপজেলা’ হিসেবে মনোনীত হয়। পরের বছর এ উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়। সেগুলো হলোÑ নাচোল ইউনিয়ন, কসবা ইউনিয়ন, ফতেপুর ইউনিয়ন ও নেজামপুর ইউনিয়ন। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারিভাবে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকার কথা, যেখানে একজন করে মেডিকেল অফিসার ও স্যাকমো থাকেন। কিন্তু নাচোল উপজেলায় এমন কোনো কেন্দ্র না থাকায় সেখানকার হাজার হাজার মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসার জন্য বারবার উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে গিয়ে আর্থিক চাপ বাড়ছে, যা গরিব মানুষের জন্য এক বড় বোঝা। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি গভীর অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাদের দুর্ভোগের বিষয়ে উদাসীন। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। যাতে সাধারণ মানুষ হাতের কাছেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। আমাদের চিকিৎসা নিতে যেতে হয় উপজেলা সদরে। এতে আমাদের ওষুধপত্রের সঙ্গে যাতায়াত ভাড়ার চাপ বাড়ে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক এটাই আমাদের দাবি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নাচোল উপজেলার কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে, কিন্তু কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল অফিসার ও স্যাকমো দিয়ে মোট মঞ্জুরি পদের সংখ্যা ৬টি। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো জনবলই নেই। শুধু কসবা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওইসব পদে দুজনই আছেন কিন্তু স্থাপনা না থাকায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন। তারা সেখানেই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, নাচোল উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। এই তিনটি সাবসেন্টারে মুঞ্জরি পদের সংখ্যা দুটি করে মোট ৬টি। নেজামপুর ও ফতেপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। শুধু কসবা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছে দুজন। তারা এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবলশূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি, আগামীতে প্রস্তাব পাঠানো হবে। আশা করছি এসব সংকট নিরসন হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা