চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০০:০৯ এএম
চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধর ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার যোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ভিডিও জার্নালিস্ট আসাদুজ্জামান লিমন। রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে খুলশি থানা কম্পাউন্ডে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার সাংবাদিক যোবায়েদ ইবনে শাহাদাত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শনিবার (১১ অক্টোবর) নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জয় বাংলা ও শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার আপডেট নিতে খুলশী থানায় আসি। সংঘর্ষস্থল থেকে আটক কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখন থানায় উপস্থিত ডিসি আমিরুল ইসলাম আমাকে তুই-তোকারি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে আমি নিউজের জন্য কেন কথা বললাম? এমন প্রশ্ন তুলে ডিসি আমিরুল আমার দুই গালে থাপ্পড় মারতে থাকেন। আমার কানে, চোখে মুখ মেরে আহত করেছে।
‘আপনি আমাকে কেন মারছেন? এমন প্রশ্ন করলে ডিসি আমিরুল বলেন, তুই ফ্যাসিস্ট, ফ্যাসিস্টরা শয়তান। আমি শয়তানকে মারছি। আবারও মারধরের প্রতিবাদ করায় আমাকে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, একেবারে গায়েব করে ফেলব।’
এদিকে, দুই সাংবাদিকের ওপর পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে খুলশী থানার সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে সর্বস্তরের সাংবাদিকরা। সমাবেশে অবিলম্বে ডিসি আমিরুলকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনী ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।
এ সময় বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ( সিইউজে ) সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, যুগ্ন সম্পাদক ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার ও চট্টগ্রাম টিভি রিপোর্টাস নেটওয়ার্কের আহবায়ক হোসাইন জিয়াদ। এছাড়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।
সিইউজে নেতারা বলেন, এই ঘটনায় যদি দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ আরও সংকুচিত হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা বলতে আর কিছুই থাকবেনা। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার চান তারা।
অভিযুক্ত ডিসি আমিরুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনার কমিটি গঠন করলে কমিটির সামনে আমার বক্তব্য দেব।