সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:২৯ পিএম
সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ নিয়ে অবহেলা সিলেটবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা; সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন ও বগি চালু; রেলের টিকিট কালোবাজারি রোধ করা এবং সিলেট টু ঢাকা বিমানের ভাড়া কমিয়ে আনাসহ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা টেকসইভাবে পুনর্গঠন করতে হবে।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো। এর দায় বর্তমান সরকারেরই নিতে হবে।’
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়নের দাবিতে রবিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার প্রতীকী ধর্মঘট পালন করে সিলেটবাসী। সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীর আহ্বানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কোর্ট পয়েন্টের এ সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। ধর্মঘট চলাকালে নগরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকে এবং যানবাহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। সভা ও মিছিল শেষে আরিফুল হক জেলাপ্রশাসককে স্মারকলিপি দেন।
গত সপ্তাহজুড়ে নগরজুড়ে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে কর্মসূচির প্রচার চালানো হয়। শনিবার সকালে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে আরিফুল হক এই প্রতিবাদে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় আরিফুল হক উল্লেখ করেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার না হলে এবং সিলেটবাসীর প্রতি বৈষম্য অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনে প্রবাসীদের রেমিটেন্স বন্ধের আহ্বান জানিয়ে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিলেটবাসী। রাজনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার। পুরো সিলেটের সড়ক ব্যবস্থা হুমকির মুখে। সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ থমকে আছে। শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোরও বেহাল অবস্থা।
সাবেক এই মেয়র বলেন, রেলওয়ের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে পড়েছে। মান্ধাতা আমলের নিয়মে চলছে রেলস্টেশন। ফলে সিলেটবাসী ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি। সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন সংযোজনের কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। এ সময় তিনি ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমান চালুর দাবি জানান।
সিলেটের মানুষ বিদ্যুৎসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে আরিফ বলেন, সিলেটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় দুই হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট, বিভাগে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে প্রতিদিন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেটের গ্যাস উৎপাদন সাতগুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সিলেটবাসী আবাসিক ও অনাবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না। গ্যাস সংযোগ দিতে হবে, অন্যথায় আন্দোলন গড়ে তুলব।
বাজেটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সিলেটের সঙ্গে এটা কেমন বৈষম্য?’