নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:২৭ পিএম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১২ অক্টোবর) অভিযুক্ত ধর্ষক, তার সহযোগীর বিচারের দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণ, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী (১৩) নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা ও একই ইউনিয়নে অবস্থিত একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
ছাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পাশের আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টঙ্গীর চরে অবস্থিত একটি মৎস্য খামারের ঘরে তার মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে মৎস্য খামারে নিয়ে যায় তারই চেনা এক প্রতিবেশী সুরুজ মিয়া (৪৫)। বাবা আরও জানান, মেয়েটি বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে তার মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে তিনি বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পুলিশ এসে অভিযোগের তদন্ত করে গেলেও এখনও মামলা নথিভুক্ত হয়নি বলে নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণের নাম মো. সজিব মিয়া। তিনি পাশের আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টঙ্গীর চর গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। বাড়িতে খোঁজ নিয়ে সজিব মিয়াকে পাওয়া যায়নি।
এ দিকে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ধর্ষকের বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠে। এছাড়া ছাত্রীর সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ে সকল শেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে সড়কে নেমে আসে। তারা সেখানে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে অভিযুক্ত সজিব ও সহযোগী সুরুজ মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানববন্ধনে পাশের শিয়ালধরা এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে বলেন, ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে, লিখিত অভিযোগটিতে বাদী স্বাক্ষর দেননি বলে জানান তিনি। বাদীকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ওসি বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী বলেন, ধর্ষণের ঘটনার তিনদিন পরও মামলা রুজু না হওয়ায় ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মেয়েটির বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।