মনপুরা (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:১০ পিএম
উপজেলায় উন্নিত হওয়ার ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত দ্বীপ জেলা ভোলার অপর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ 'মনপুরা' উপজেলার দেড় লাখ মানুষ। দিন-রাত মিলিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এই দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দারা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দুটি জেনারেটরের মাধ্যমে মাত্র ৬০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম। যেখানে কমপক্ষে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।
নদীভাঙন রোধ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও বিদ্যুতের তেমন কোনো উন্নয়ন ঘটেনি এই উপকূলে। বিদ্যুতের দাবিতে এ উপজেলার বাসিন্দারা দফায় দফায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও বড় পরিসরে আন্দোলন করলেও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার মাঝেও সম্প্রতি বিদ্যুৎ নিয়ে আশার আলো দেখছে মনপুরার দেড় লাখ মানুষ।
এরই মধ্যে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর পূর্ণ উপযোগিতা নিশ্চিত করণের বিষয়ে কারিগরি দিক, সুবিধাদি ও চ্যালেঞ্জসমূহ বিবেচনা করে মনপুরা উপজেলাকে জাতীয় গ্রীডের আওতায় আনতে মতামত ও সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবশেষে বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সচিব পর্যায়ের একটি টিম মনপুরায় পরিদর্শনে আসেন। এ উপলক্ষে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ ও গণমাধমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের (পরিকল্পনা) অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ জাকিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান, পরিচালক মনিরুজ্জামান, পরিচালক মো. আবদুল আজিজ, উপসচিব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ ও সিনিয়র সহকারী সচিব হাসান সাদী।
সভায় বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মনপুরার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে এই অবহেলিত জনপদ। শিগগিরই নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে মনপুরা উপজেলাকে।
বিদ্যুৎ বিভাগের (পরিকল্পনা) অতিরিক্ত সচিব নুর আহমদ বলেন, মনপুরার মানুষ যেন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা পায় সেই জন্য দুইটি টেকনিক্যাল রুট বিবেচনায় আছে। একটি তজুমুদ্দিন উপজেলা থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চর কলাতলী হয়ে মনপুরা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা। অন্যটি হলো, চরফ্যাসন উপজেলা থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরাসরি মনপুরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা।