× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চাঁদা না পেয়ে ১০ নৌকা আটকে দিলেন বিএনপি নেতা

সাইফুল হক মোল্লা দুলু,মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২২:২২ পিএম

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২২:২৩ পিএম

চাঁদা না পেয়ে ১০ নৌকা আটকে দিলেন বিএনপি নেতা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চাঁদা না পেয়ে যাত্রী পারাপারের ১০টি নৌকা আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাইনি ভুক্তভোগী নৌকার মাঝিরা। তবে পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

উপজেলার হুমাইপুর পাটুলী নৌরুটের নৌকার মাঝিদের অভিযোগ, পাটুলী ঘাটে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে চাঁদা না দিলে যাত্রী পারাপারের নৌকাগুলো ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হয় না। তবে মাঝিরা নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করলেও বুধবার (৮ অক্টোবর) যাত্রীসহ নৌকা ঘাটে ভিড়ালে মনিরুজ্জামান মনির মাঝিদের ১০টি নৌকা আটকে দেন। এ ঘটনার পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মাঝিরা।

সরেজমিনে পাটুলী ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারি করে বেঁধে রাখা হয়েছে যাত্রী পারাপারের ১০টি নৌকা। চাঁদার টাকা না পেয়ে নৌকাগুলো আটকে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক নৌকা থেকে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও ২ দিনে কোনো সুরাহা হয়নি। মাঝিরা জানান, আগে প্রতিদিন ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হতো। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছেন ৬০০ টাকা। চাঁদা বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও কেন নৌকাগুলো আটকে রাখা হয়েছে তা মাঝিদের জানা নেই। বর্ষাকালে হুমাইপুর ঘাট থেকে পাটুলী ঘাট পর্যন্ত ছোট ছোট নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। নৌকা আটকে রাখায় বর্ষার মৌসুমে একমাত্র জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েছেন মাঝিরা।

মাঝি নুর আলম বলেন, আমরা ১০টি নৌকা চালাই। প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে চাঁদা দেই। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের নৌকাগুলো আটকে দেয়া হয়। হুমাইপুর ইউনিয়নের রাশেদ, জব্বার, ফারুক, মনির, কাউসার এবং আরও কয়েকজন এসে আমাদের নৌকাগুলো আটকে দেয়।

মাঝি জাহাঙ্গীর বলেন, আগে ২০০-৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। বর্তমানে দিতে হয় ৬০০ টাকা। হুমাইপুর থেকে ১০টি এবং পাটালিঘাট থেকে ১০টি নৌকা চলাচল করে। হঠাৎ করে বুধবার এসে আমাদের নৌকাগুলো আটকে দেয়।

মাঝি মো. কামাল বলেন, আমরা অসহায় গরীব মানুষ। আমাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। আমরা নৌকাগুলো ভাড়া এনেছি, কিন্তু নৌকাগুলো আটকে রাখলে আমরা কি করব। বাজিতপুর থানা বিএনপির সেক্রেটারি মুনিরের নির্দেশে নৌকাগুলো আটকে রাখে তার লোকজন। আমরা সেনাক্যাম্পে গিয়েছিলাম। থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ আমাদের কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। আমরা তো নিরুপায়। 

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ঘাটের ইজারাদার ও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ইজারার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালিয়ে যান।

নৌকা আটকে রেখে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। হুমাইপুর ঘাটে সরকারের কোনো ইজারা নেই। উল্টো সেখানে উপজেলা বিএনপির সদস্য হেলাল খানের নেতৃত্বে অনিয়ম চলছে।

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বিষয়টি দলীয় দুপক্ষের কোন্দল ঘিরেই ঘটেছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা