খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২২:১৬ পিএম
খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া এলাকায় ঢাকী নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি টানা তিন দিনের প্রচেষ্টায় মেরামত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার সারারাত ধরে কাজ করে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোরে জোয়ারের আগে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে নদীর পানি আর ঢুকছে না। তবে অন্তত তিনটি গ্রাম এখনও পানিবন্দি।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া এলাকায় ঢাকী নদীর পানির তোড়ে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা জুড়ে বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে উত্তর কামিনীবাসিয়া, নিশানখালী, আড়াখালী, দক্ষিণ কামিনীবাসিয়া, ভাদলাবুনিয়া, মশামারী, গড়খালী ও কাকড়াবুনিয়াসহ নয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, সবজির খেত ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক আনসার আলী বলেন, আমার তিন বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ঘেরের সব মাছও ভেসে গেছে। এখন পানি নামবে কবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।
বাসিন্দা আজাদ শেখ বলেন, তিন দিন ধরে আমরা নিজেরাই বালির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেছি। এখন পানি ঢোকা বন্ধ হলেও ঘরের মধ্যে এখনও পানি রয়েছে। রান্না করতে পারছি না। ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
পাউবোর খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় রাতদিন কাজ করে আমরা বাঁধটি মেরামত করেছি। এলাকাবাসীর সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভাঙন আর না ঘটে।
এ ঘটনায় প্রায় তিন হাজার বিঘা জমির আমন ধান, শতাধিক মাছের ঘের ও সবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও ১২০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকী নদীর পানি বাড়লেই প্রায় একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তারা দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।