চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২১:০০ পিএম
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের কেউন্দা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তার ৩ সন্তানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ মোছা. রোকসানা আক্তার (৪৫) চুনারুঘাট থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ঘটনার পর অভিযুক্ত ভাসুর মো. রহিছ খান (৪৫) ও তার ছেলে মো. এনাম খান (১৯)- নামে দুই দাঙ্গাবাজকে গ্রেপ্তার করেন।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃতদের বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে থানার উপ-পরিদর্শক রিপিট পুরকায়স্থের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। এজাহারে রোকসানা আক্তার উল্লেখ করেন, তার স্বামী মালদ্বীপ প্রবাসী মো. ওয়াহিদ খান। ভাসুর রহিছ খানের সহায়তায় স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভাসুর রহিছ খান ও তার ছেলে এনাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিদ্বয় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বসতঘরে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। এতে রোকসানা আক্তারসহ তার ছেলেমেয়ে রুবা আক্তার, সাহান খান ও মোয়াজ খান গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রোকসানা আক্তারের দাবি, হামলার সময় রহিছ খান লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করলে তার কোমর ও পায়ে গুরুতর জখম হয়।
অন্যদিকে, এনাম খান লাঠি দিয়ে তার সন্তানদের প্রহার করে। এ সময় এনাম খান তার মেয়ে রুবা আক্তারকে টেনেহেঁচড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং তার গলা থেকে ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যার মূল্য ৯০ হাজার টাকাÑ তা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করেন।
চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।