বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০৯ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ২০:১৩ পিএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে দায়িত্বরত মৎস্য দলের ওপর জেলেদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের বিশারিকাঠী এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় মৎস্য বিভাগের ট্রলারে জেলেদের হামলার ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৭ জনকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ দণ্ড প্রদান করেন।
জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের বিশারিকাঠী এলাকায় একটি ট্রলারে অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন জেলে অভিযানরত কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করে।
আটককৃতদের বাড়ি আন্দারমানিক ও চন্দ্রমোহন এলাকায়। আটকৃতরা হলেনÑ সগির হাওলাদার, মিজান হাওলাদার, শুভ মাঝি, মিঠুন মাঝি, সুমন মাঝি, সাদিম হাওলাদার, শরাফাত হোসেন, মামুন হাওলাদার, নাজমুল মিস্ত্রি, রুবেল ডাকুয়া ও রাসেল মল্লিক।
এছাড়াও গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার কারখানা নদীতে অভিযান চালায় উপজেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার সময় ৫ জেলেকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩ জেলেকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং বয়স কম থাকায় বাকি দুইজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেনÑ মো. রাজু খান (২৭), খোকন হাওলাদার (৩২), শহিদ খান (৩৮), তিন জনই একই উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
তাছাড়া গত ৮ অক্টোবর (বুধবার) ৬ জনকে আটক করে জরিমানা করে মুচলিকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ বলেন, ০৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার জেলেদের ইলিশ মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৪৬৩৩ জেলে পরিবারের জন্য ১১৫.৮২৫ মে. টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সকলকে মা ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৬ দিনে মোট ২২ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে জেল দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ জনকে জরিমানা ও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন নদনদীতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মৎস্য বিভাগের টিম অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে কেউ আইন ভঙ্গ করতে না পারে।
মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,
‘ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় বর্তমানে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময় মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’