সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০৮ পিএম
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্বাধীনতার পর জাতির জন্য সর্বোচ্চ অর্জন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হবে। এর আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এই দাবি শুধু জামায়াতের নয়, দেশপ্রেমিক জনতার। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতির নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবি করায়Ñ বলা হচ্ছে, আমরা নাকি নির্বাচন চাই না। অথচ এক বছর আগেই ২০০ আসনে আমরা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছি। বড় দলটির একটি আসনে এখানো ১০ জনেরও বেশি প্রার্থী কাজ করছেন। প্রার্থী ঘোষণা করে দেখেন না ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। কেউ কেউ পিআর বুঝেন না। সময় গেলে এটাও বুঝবেন। কেয়ারটেকার পদ্ধতির মতো পিআর পদ্ধতিও এদেশে কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানসহ জামায়াত ঘোষিত ৫ দফা দাবি মেনে নিন। অন্যথায় ফের গণআন্দোলনের সূচনা হবে।’
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বাদ জুমআ নগরীর কোর্ট পয়েন্টে জামায়াত কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনে (মহানগর ও সদর) জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।
আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা নায়েবে আমির সিলেট-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শাহীন আহমদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সভাপতি তারেক মনোয়ার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছে। সেই কমিশন টানা ৮ মাস ধরে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করেছে। কমিশনের অনেক প্রস্তাবের মধ্যে ৮৪টি প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। এছাড়া সংবিধানে জামায়াত প্রস্তাবিত জুলাই অধ্যাদেশ জারির ব্যাপারেও সবাই একমত হয়েছেন। এর জন্য গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব গণভোটের আয়োজন করা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, জনগণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলকে নির্বাচিত করে তাদের শাসন দেখেছে। এবার তারা দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে চান। জামায়াত ঘোষিত ৫ দফা দাবি মেনে নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করুন। অন্যথায় ছাত্র-জনতার আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্লোগান শুনেছি। দলের চেয়ে দেশ বড়, ব্যক্তির চেয়ে দল। কিন্তু যখনই স্বার্থে আঘাত পড়ে যায় তখন সবকিছুর উপরে ব্যক্তি বড় হয়ে যায়। এই জাতিকে আর ধোঁকা দেওয়া যাবে না। যেনতেন নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ। জুলাই সনদের আইনিভিত্তি, পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ও জামায়াত ঘোষিত ৫ দফা দাবি মেনে নিয়েই সরকারকে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।