গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০৩ পিএম
গলাচিপায় ভাঙা সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ও সদর ইউনিয়নের সংযোগ সেতুর দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মুরাদনগর সেতু বাজার এলাকায় স্থানীয়দের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দুই ইউনিয়নের কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।
এ সময় বক্তব্য দেন- উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. নাসির উদ্দিন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মু. হারুন অর রশিদ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্বাস হাওলাদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. আলী জিন্নাহ, গলাচিপা সদর বিএনপির সভাপতি মু. নাসির উদ্দিন প্যাদা এবং সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসাইন প্রমুখ।
বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর মাঝ বরাবর ধসে গিয়ে এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শতশত পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা আরও বলেন, প্রতিনিয়ত কৃষকের উৎপাদিত কাঁচা সবজি বাজারে আনা-নেয়া, মালামাল পরিবহনে সেতুটি ব্যবহৃত হয়। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে দুই পাড়ের যোগাযোগ। বর্ষাকালে সমস্যা আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে।
পানপট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, বহু কষ্টে ও নিজ উদ্যোগে সেতুটি এখানে নির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেটি সম্পূর্ণ বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিদিন মানুষ ও রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে।
স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা জানায়, এই সেতু দিয়েই শতশত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। ভাঙা সেতু হেঁটে পার হতেও ভয় লাগে। দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা খুবই জরুরি। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সময়ে সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সেতুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের দিকে পুরাতন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর থেকে সংস্কার না হওয়ায় ও ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে পড়েছে। এখন সংস্কার না হলে দুটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। উপজেলা শহরের সঙ্গে দ্রুত ও সহজ যাতায়াতে সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।