রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:১৬ পিএম
রাজশাহীর মধ্য শহরের যানজট নিরসনে দূরপাল্লার বাসগুলোকে নওদাপাড়ায় অবস্থিত নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে টার্মিনালটি পরিদর্শন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলম সহ রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হেলাল ও রাজশাহীর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম পাখি।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, রাজশাহীতে প্রতিদিন কয়েকশ দূরপাল্লার বাস শহরে প্রবেশ করে। এতে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে জানজট তৈরি হয়, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। গত এক বছর ধরে আমরা চেষ্টা করছি যেন নওদাপাড়া টার্মিনাল থেকেই এসব বাস যাত্রী উঠানামা করে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি—দূরপাল্লার বাস কাউন্টার শহরের যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে, কিন্তু যাত্রী উঠানামা অবশ্যই নওদাপাড়া টার্মিনাল থেকে করতে হবে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা একাধিকবার পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা নানা অজুহাত দিচ্ছেন। কিন্তু এই শহরের যানজট নিরসনের স্বার্থে সবাইকে নিয়ম মানতে হবে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলম বলেন, নওদাপাড়া টার্মিনালটি আধুনিকীকরণের জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। টার্মিনালের সামনে যে দোকানগুলো রয়েছে, সেগুলো ধীরে ধীরে অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কাউন্টার, যাত্রী বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে।
আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু যানজট কমানো নয়, নওদাপাড়াকে একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনালে পরিণত করা। সেই লক্ষ্যে আমরা পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। তারা মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। আশা করছি, খুব শিগগিরই দূরপাল্লার সব বাস এই টার্মিনাল থেকেই যাত্রী পরিবহন করবে।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হেলাল বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল নির্মাণ করলেও এর সামনে গড়ে ওঠা দোকানগুলো যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে টার্মিনালে যাত্রীদের বসার জায়গা, চলাচলের সুব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শৌচাগার ঠিকভাবে চালু হয়নি। এইসব সুবিধা না থাকলে যাত্রীরা কষ্ট পাবেন।