আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৪৯ পিএম
আমতলীর আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নিচে গরু পালন করা হচ্ছে। প্রবা ফটো
বরগুনার আমতলীতে বিদ্যালয় ভবনের নিচতলায় গোয়াল ঘর তৈরি করে গরু ও মহিষ পালন করায় চরমভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয় প্রভাবশালী শাহ আলম হাওলাদার ও ফোরকান হাওলাদার প্রভাব খাটিয়ে স্কুলভবনে গোয়াল ঘর তৈরি করেছেন। গত তিন মাস ধরে বিদ্যালয়ের চারদিকে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণ, রোগব্যাধি ছড়ানোসহ পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। গত তিন মাস ধরে ভবনের নিচতলায় শাহ আলম হাওলাদার পাঁচটি গরু এবং ফোরকান হাওলাদার তিনটি মহিষ লালন-পালন করছেন। এতে বিদ্যালয়ের চারপাশে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নিষেধ করলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার।
তিনি বলেন, শাহ আলম হাওলাদার ও ফোরকান হাওলাদার জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের ভবনে গোয়াল ঘর তৈরি করেছেন। এতে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। একাধিক বরার পর তারা গোয়াল ঘর সরাচ্ছেন না। স্থানীয় সুশীল সমাজের সহায়তায় অনুরোধ করলে তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের নিচে ৫টি গরু ও ৩টি মহিষ বাঁধা আছে। গোবর, খড়কুটা ও ঘাসে চারপাশ একাকার হয়ে আছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নাক চেপে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠেও বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিল, সাদিয়া, সাব্বির ও মুসাদ্দিকা বলেন, গোয়াল ঘর থেকে এমন দুর্গন্ধ আসে যে ক্লাসে থাকা দায়। আমাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত গোয়াল ঘর সরানোর দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত তিন মাস ধরে শাহ আলম হাওলাদার ও ফোরকান হাওলাদার বিদ্যালয় ভবনের নিচে গরু-মহিষ পালন করছেন। এতে পুরো বিদ্যালয় এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষণ হচ্ছে। তারা দ্রুত গোয়াল ঘর অপসারণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত শাহ আলম হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে গোয়াল ঘর করা আমার ভুল হয়েছে। আমি দ্রুত গোয়াল ঘর সরিয়ে নেব।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যদি দ্রুত গোয়াল ঘর সরানো না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।