নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৮ পিএম
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে মায়ের লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২০ ঘণ্টা লাশ দাফন বিলম্বের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেমের হস্তক্ষেপে অবশেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর গ্রামের মৃত মাওলানা সেলামত উল্ল্যাহর স্ত্রী আমেনা বেগম (৬৫) গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেগমগঞ্জে তার মেয়ের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্বামীর কবরের পাশে দাফনের জন্য মরদেহ নিজ বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু দাফনের প্রস্তুতির সময় দুই ছেলে নজিব উল্ল্যাহ ও সাইফুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে এবং মায়ের লাশ দাফনে বাধা দেয়। এলাকাবাসী অনেকবার অনুরোধ করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ভাইকে সমঝোতায় আনেন। তার হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আমেনা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় মাওলানা বিল্লাহ বলেন, মাওলানা সেলামত উল্ল্যাহ খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর দুই ছেলে মায়ের লাশ দাফন নিয়ে এমন অমানবিক আচরণ করবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। মূলত নজিব উল্ল্যাহ ও সাইফুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমাধান না হওয়ায় এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের বড় ছেলে নজিব উল্ল্যাহ বলেন, আমি মায়ের নামে ২২ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করি। কিন্তু আমার ছোট ভাই ও বোনরা কৌশলে মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেয়। তাই আমি প্রতিবাদ করেছি। আমি চাইছিলাম, দাফনের আগে এই সম্পত্তির হিস্যা পরিষ্কার হোক। যার কারণে মায়ের দাফন কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনা হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে মরহুমার দাফন সম্পন্ন হয়।