নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:২৮ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অভ্র। প্রবা ফটো
নড়াইলে দুই স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরিয়ান ইসলাম অভ্র (১৬) খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আহত অপর ছাত্র নিরব বিশ্বাস (১৩) নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছে।
ওই ঘটনায় অভ্রর নানী সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত ২ অক্টোবর রাতে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের সীতারামপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আরিয়ান ইসলাম অভ্র যশোর সদরের নীলগঞ্জ এলাকার সৌরভ মাহমুদের ছেলে। সে ছোটবেলা থেকেই নড়াইল সদরের বেতবাড়িয়া এলাকায় নানাবাড়ি থাকেন এবং গোবরা প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বন্ধু নিরব বিশ্বাস একই উপজেলার দক্ষিণ নড়াইলের সাধন বিশ্বাসের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
মামলায় প্রধান আসামি হলেন- নড়াইল পৌর এলাকার মহিষখোলা গ্রামের মো. মনিরুলের ছেলে রাব্বি সিয়াম (২৫)। ঘটনা স্থলে রাব্বির সহযোগী হিসেবে ছিলেন, নড়াইল সদরের দুর্গাপুরের বাসিন্দা দুরন্ত বিশ্বাস যুধিষ্ঠি (৩০) ও মহিষখোলার গ্রামের খন্দকার শায়খ আলী আবির (২১)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর রাতে শহরের বাঁধাঘাটের পূজার মেলা দেখে অভ্র ও নিরব মোটরসাইকেলে বের হন। সীতারামপুর এলাকায় পৌঁছালে দুই মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন যুবক তাদের পথরোধ করে। তুচ্ছ কারণে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অভ্র ও নিরবকে বেধড়ক মারধর করেন এবং তাদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। বেধড়ক পিটুনির ফলে অভ্র’র কলারবোন ভেঙে যায়। পরে এক পথচারী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে অভ্রকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে সে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা নিরবের প্যান্ট খুলে মোটরসাইকেলের গরম সাইলেন্সার দিয়ে তার শরীরের পেছনের অংশ পুড়িয়ে দেয়। এতে নিরব গুরুতর দগ্ধ হয়।
অভ্রর নানী সুফিয়া বেগম বলেন,দুজন স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাকে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক যেভাবে পিটিয়েছে, তা অমানবিক। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নড়াইল সদর থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন,মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোরের ওপর এ ধরনের নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়াম ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।