বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:০৩ পিএম
বগুড়ার ধুনটে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বুধবার আকস্মিক ভাঙনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই এখন এ ভাঙনের মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে যমুনার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। গত দুই দিনে পানি বেড়েছে প্রায় ১০০ সেন্টিমিটার। তীব্র স্রোতের কারণে ঘূর্ণিবর্ত সৃষ্টি হয়ে নদীপাড়ে আঘাত হানছে। বুধবার ধুনটের শহড়াবাড়ি স্পার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩০০ মিটার এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও চাষযোগ্য জমি বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র বালু উত্তোলন চলছে। যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বালুমহাল বাদ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতিবছর ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, শুধু ধুনট নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন উপজেলায় প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন বিস্তৃত। ভাঙন ঠেকাতে ইতিমধ্যে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম তৌহিদুল আলম মামুন বলেন, ভাঙনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লাগানো পাকুড়গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজানের ঢলে পানি কিছুটা বেড়ে আবার কমছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে কাজ চলছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বগুড়ার তিন উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন রোধে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। ২০০১ সালে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকায় স্পার নির্মাণ করা হয়।