সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:০৩ পিএম
সিরাজগঞ্জে ভিক্ষুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা গণনা করা হচ্ছে। প্রবা ফটো
সিরাজগঞ্জে সালেহা পাগলী নামের এক ভিক্ষুকের কাছে জমানো দুই বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয়রা দেখতে পান সালেহার বসতঘরের পাশে থাকা একটি বস্তা। সন্দেহবশত বস্তাটি খোলা হলে তার ভেতরে টাকা ভর্তি দুটি বস্তা পাওয়া যায়। এতে এক, দুই, পাঁচ, দশ, পঞ্চাশ ও শত টাকার বিভিন্ন নোট ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালেহা বেগম মৃত আব্দুস ছালামের স্ত্রী, যাকে সবাই ‘সালেকা পাগলি’ নামে চিনতেন। দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার ১ নম্বর রায়পুর মিলগেট সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কক্ষে বসবাস করতেন তিনি। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সালেহা বেগম এবং প্রাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করে নিজের কক্ষে সংরক্ষণ করতেন।
ভিক্ষুকের মেয়ে শাপলা খাতুন বলেন, মা আমাদের সঙ্গে থাকত না, আলাদা থাকত। আজ তার থাকার জায়গা থেকে অনেক টাকা পাওয়া গেছে। এখন আমি মায়ের কাছে আছি। এই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করানো হবে।
ভিক্ষুকের মেয়ের জামাই রিকশা চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার শাশুড়ি অসুস্থ ছিল। বলছিলাম, আপনাকে চিকিৎসা করাব, কিন্তু তার কাছে কত টাকা আছে, সেটা বলতে চাইতো না। আজ এলাকাবাসী গিয়ে তার বারান্দার নিচে থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করেছে। এখন সবাই মিলে গুনছেন।
স্থানীয় শেখ কামাল বলেন, বাজারে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম দুই বস্তা টাকা নিয়ে লোকজন গণনা করছে। সালেহা বেগম প্রায় ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করেন। জানতাম না তার কাছে এতো টাকা আছে। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো হতে পারে।
টাকা গণনায় অংশ নেওয়া রাশেদুল ইসলাম বলেন, সালেহা পাগলী দীর্ঘদিন ধরে কওমি জুট মিলের পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ের বারান্দায় থাকেন। দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ। আমার ধারণা ছিল, তার কাছে কিছু টাকা আছে। পরে এলাকাবাসী গিয়ে দুই বস্তা টাকা পায়। অনেক টাকা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন টাকাগুলো গোনা হচ্ছে। এই টাকা তার চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহরিয়ার আহমেদ শিপু বলেন, সালেহা নামের ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে টাকাগুলো জমিয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। দুই বস্তা টাকা উদ্ধারের পর এলাকাবাসী জনসম্মুখে গুনছে। সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, টাকাগুলো তার চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে সালেহা বেগমকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।