বগুড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:২৪ পিএম
কোলাজ, প্রবা
বগুড়ার ধুনটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও আলামত নষ্টের অভিযোগে ধুনট থানার সাবেক ওসি এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকালে বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়া উদ্দিন মাহমুদ দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি হলেন- ধুনট উপজেলার জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মুকুল এবং গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে কর্মরত ধুনট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ কৃপা সিন্ধু বালা।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক মুরাদুজ্জামান মুকুল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ধুনট পৌরসভার অফিসারপাড়ায় স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। তিনি ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা ধুনট থানায় মামলা করেন।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা আসামি মুকুলকে গ্রেপ্তারের পর তার মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিওর প্রমাণ পান। কিন্তু তিনি ঘুষের বিনিময়ে ওই ভিডিওসহ বেশ কিছু আলামত নষ্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা বগুড়ার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কৃপা সিন্ধু বালাকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
পরে তদন্তের দায়িত্ব কয়েক দফা পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ পিবিআই বগুড়ার পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার মূল আসামি মুরাদুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোজাম্মেল হক জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।