২ মেয়ের অভিযোগ
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সহসভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠনের পাশাপাশি অর্থ আত্মসাত ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার দুই মেয়ে শেখ তামান্না আলম ও ডা. তাসনুভা আলম।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই বোন এসব অভিযোগ আনেন। তাদের দাবি, বাবার অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় তারা যে কোনো সময় খুন বা অপহরণের শিকার হতে পারেন।
লিখিত বক্তব্যে তামান্না আলম জানান, ৩৬ বছর আগে তার মা নিহত হলেও সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ডা. বাহারুল আলম। এ ঘটনায় তিনি সম্প্রতি হত্যা মামলা করেছেন। এছাড়া খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন আদালতে বাবার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তামান্না অভিযোগ করেন, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মচারী হেনা রানী ভৌমিকের সঙ্গে ডা. বাহারের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের ১৮ বছর বয়সী কন্যা সন্তানও রয়েছে। হেনা রানী ও তার স্বামী চিত্ত রঞ্জন সেনের সহযোগিতায় ডা. বাহার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ তামান্না আলম বলেন, বাবার পরকীয়া প্রেম, অন্য নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও নির্মম অত্যাচারে ১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর তার মায়ের মৃত্যু হয়। এরপরও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ওষুধ কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা, পৈত্রিক সম্পত্তিতে আত্মীয়দের বঞ্চিত করা, মেয়েদের স্বাক্ষর জাল করে ঢাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি ও ব্যাংক থেকে ঋণ তোলার অভিযোগও রয়েছে ডা. বাহারের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে দুই বোন বলেন, ডা. বাহার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এবং খুলনা বিএমএর সভাপতি। তিনি খুলনা বিএমএ ভবন ও নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠনের কাজ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, কেউ প্ররোচিত করে আমার মেয়েদের দিয়ে এসব করাচ্ছে। ৩৬ বছর পর কেন অভিযোগ উঠবে? এপিসি ফার্মা দখলের জন্য একটি মহল আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে সম্প্রতি তামান্না আলমকে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও স্বাচিপ থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে ডা. বাহার জানান, দল ও সংগঠনের সমালোচনা করায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।