ধলেশ্বরী ব্রিজ
অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:২১ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৪১ পিএম
টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে চারাবাড়িঘাট এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের অ্যাপ্রোচ (সংযোগ সড়ক) ধসে পড়ায় টাঙ্গাইল শহরের সঙ্গে পাঁচটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে ব্রিজের পশ্চিম পাশের অ্যাপ্রেচ (সংযোগ সড়ক) ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, কদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীতে পানি বাড়ছে। এতে পানির চাপ পড়ে ব্রিজের সংযোগ সড়কে। মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এ কারণে টাঙ্গাইল সদরের চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদনগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ টাঙ্গাইল শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কের চারাবাড়িঘাটে ধলেশ্বরী নদীর ওপর এলজিইডি ১৭০ দশমিক ৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকে ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের সংযোগ সড়ক কয়েকবার ধসে পড়ে। গত বছরের ১০ জুলাই শেষবার ব্রিজের পশ্চিম পাশের অ্যাপ্রোচ ধসে যায়।
স্থানীয়রা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ছাড়াও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন অফিস-আদালতের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, তাঁত শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেওয়ার কাজে প্রতিদিন ট্রাক, অটোভ্যান, ব্যাটারি ও গ্যাসচালিত রিকশা চলাচল করে থাকে। অ্যাপ্রোচ ধসের ফলে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্যাস ও ব্যাটারিচালিত গাড়িচালক আব্দুল হাই ও খোরশেদ আলম বলেন, তিনি বুধবার ভোরে যাত্রী নিয়ে ব্রিজের কাছে এসে দেখতে পান পশ্চিম পাশের অ্যাপ্রোচ ধসে গেছে। পরে যাত্রী নামিয়ে দেন। বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে আর গাড়ি চালানো যাবে না বলে জানান তিনি।
স্থানীয় আব্দুর রশিদ বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর থেকেই তিনবার অ্যাপ্রোচ ভেঙে পড়েছে। এই সেতুর নিচ দিয়ে শুকনো মৌসুমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। ফলে ব্রিজের সংযোগ সড়ক বারবার ভেঙে পড়ছে। গ্যাসচালিত গাড়িচালক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ব্রিজের বাঁক থাকায় সেতুর অ্যাপ্রোচের পাশে পানির চাপ পড়ে। এ কারণে বর্ষা এলেই সেখানে অ্যাপ্রোচ ধসে যায়। এ ব্যাপারে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান বলেন, নদীতে পানির চাপ বেড়ে ব্রিজের পশ্চিম পাশের অ্যাপ্রোচসহ স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্রিজ ভেঙে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ নিয়ে আসবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ইউএনও শাহিন মিয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুর্ভোগ লাঘবে সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিমাপও করা হয়েছে। দুপুর থেকেই সংযোগ সড়কে মাটি ফেলা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সদর উপজেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে অতিদ্রুত অ্যাপ্রোচ মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।