মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
সিন্টিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এমএ হালিম লাবলু। তার সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষও।
এর আগে, মিঠাপুকুরে সদ্য পদায়ন হওয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহারকে দূর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা নিয়ে মব সৃষ্টি করে কর্মস্থলে যোগদানে বাধা প্রদান করার পর আবাসিক মেডিকেল অফিসারের রুমে তালা লাগানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মিজানুর রহমানের ডিউটি রুমে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ডা. মো. মিজানুর রহমানের ডিউটি রুমে তালা ঝুলছে। তিনি তার রুমে ঢুকতে না পেরে ডিউটিরত নার্সের রুমে বসে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, ডা. এমএ হালিম লাবলু কর্মরত নার্স, স্টাফদের সঙ্গে নিয়ে হলরুমে মিটিং করছেন। এতে রোগীসহ সেবাপ্রত্যাশীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
শঠিবাড়ী কাঁঠালি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমি রক্ত ডোনেট করার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এসে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছি। গত ৩ দিন থেকে হাসপাতালে এসে দেখছি সেবা বন্ধ করে হাসপাতালে আন্দোলন চলছে। আজকে (আরএমও) সাহেবের রুমে তালা ঝুলছে।
রোগীর স্বজন ও হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের মদতপুষ্ট ডা. এমএ হালিম লাবলু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাÑ ডা. মো. রাশেবুল হোসেন এখানে একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। তাদের দাপটে কয়েক বছরে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন, টিএ, ডিএ আত্মসাৎ, ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম (MSR) পণ্যক্রয়ে নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ, অক্সিজেন বরাদ্দ আত্মসাৎ ও সরবরাহে বাধা, রোগীদের ডায়েট স্কেল সরবরাহে অনিয়ম, একই ব্যক্তিদের টেন্ডার দেওয়াসহ নিজেরাই আংশিক টেন্ডারের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ডা. মো. রাশেবুল ইসলামের বদলির আদেশ পাওয়ার পর ডা. এমএ হালিম লাবলু তাকে আটকাতে মরিয়া হয়ে পড়েন। তার নিজস্ব সিন্ডিকেট দিয়ে পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ডা. শামসুন্নাহারকে কর্মস্থলে মব সৃষ্টি করে হেনস্তা করেন। ছয় বছর একই কর্মস্থলে এবং নিজ এলাকায় পোস্টিং হওয়ায় মিঠাপুকুর হাসপাতালে আতঙ্কের নাম লাবলু সিন্ডিকেট। তাকে বদলির দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণ।
উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএম ও) ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সদ্য পদায়ন হওয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহারকে যোগদানে সমর্থন করার কারণে আমার ডিউটি রুমে তালা লাগিয়েছে। এর জন্য চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে পারছি না। মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বর্তমানে আমি নার্স স্টাফদের রুমে বসে সেবা দিচ্ছি।
উপজেলা মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এমএ হালিম লাবলু বলেন, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কর্মরত আছি ঠিকই। তবে, কাউকে কখনো অনিয়ম দুর্নীতি করতে দেইনি। এই আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মিজানুর রহমানের দুর্নীতির দায়ে তার রুমে তালা লাগানো হয়েছে। পরে আমি চাবি দিতে চেয়েছিলাম সে নেয়নি। তবে, হাসপাতাল সিন্ডিকেটের বিষয়টি সমপন্ন মিথ্যা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, তালা লাগার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।