আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:২৫ পিএম
আমতলীর উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ী) নুরানী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, (ইনসেটে মাদ্রাসা সুপার)। প্রবা ফটো
বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ী) নুরানী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আলাউদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওলানা মো. আলাউদ্দিন সিকদার আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন।
জানা যায়, মাওলানা আলাউদ্দিন সিকদার ১৯৯২ সালে মাদ্রাসায় সুপার পদে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া নিয়োগ, কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন এই মাদ্রাসা সুপার।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পর মো. আলাউদ্দিন সিকদার উপজেলা ওলামালীগ সভাপতির দায়িত্ব নেন। সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর প্রভাব খাটিয়ে তিনি ভোকেশনাল শাখা না খুলে ৫ লাখ টাকার ঘুষ নিয়ে মো. আব্দুল হককে টেকনিক্যাল শপ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ দেন।
২০২০ সালে হাফিজুর রহমানকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নেন। কিন্তু তাকে চাকরি না দিয়ে অন্যকে নিয়োগ দেন। এছাড়াও বারেক নামের একজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই সুপারের বিরুদ্ধে। শাখারিয়া এলাকায় তিনি এতিমখানার নামে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ১০ বছরে অন্তত ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তালিকাও তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হক বলেন, ভোকেশনাল শাখা না খুলে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আমাকে ভুয়া নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই মাদ্রাসা সুপারের শাস্তি চাই। নৈশ প্রহরী পদে আবেদনকারী হাফিজুর রহমান বলেন, আমার কাছ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নিয়েছেন, চাকরি দেয়নি। শালিস বৈঠক হলেও টাকা ফেরত দেননি।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবিএম রফিকুল্লাহ বলেন, সুপার মাদ্রাসাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তবে মাওলানা মো. আলাউদ্দিন সিকদারের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি কোনো অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতার দুই ছেলের বিরুদ্ধে আগে একটি অভিযোগ হয়েছিল, কিন্তু তা সত্য প্রমাণিত হয়নি। সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।