× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাসপাতাল যেন নিজেই রোগী

ইউসুফ আহমেদ, লালমোহন (ভোলা)

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫২ এএম

হাসপাতাল যেন নিজেই রোগী

প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এটি এখন নিজেই রোগী। মানুষকে কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেবে! স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলা ভবন জরাজীর্ণ। ভবনে রয়েছে জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগ ও প্যাথলজি বিভাগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস রুম। ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে এখন খসে পড়ছে পলেস্তরা। ফাটল ধরেছে ভবনের ছাদ, বিম ও দেয়ালে। বৃষ্টি হলে চুইয়ে পড়ে পানি। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসক, নার্স ও রোগীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

এর আগেও জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান রোগী ও চিকিৎসকসহ কর্তব্যরতরা। 

১৯৭৪ সালে একটি দোতলা ভবনে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হয় লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এরপর ২০০৮ সালে তিনতলা ভবন নির্মাণ করে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তিনতলা ভবনে বহির্বিভাগ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার এবং ১৯টি শয্যা করা হয়। তবে এরই মধ্যে পুরনো ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। কয়েকবার মেরামত করেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো দোতলা ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। অথচ এই ভবনেই রয়েছে ইউএইচএফপিও, চিকিৎসক ও নার্স-মিডওয়াইফদের রুম। এ ছাড়া জরাজীর্ণ দোতলা ভবনে চলছে জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, ল্যাব ও ইপিআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম। 

তিন বছর আগে পুরনো ভবন মেরামত করা হলেও ফের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবাপ্রত্যাশী রোগী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্টাফরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীর স্বজন ইসমাইল, আব্দুর রহিম, আছিয়া ও করিমজান বলেন, হাসপাতালের ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। এসব দেখে অনেক ভয় হচ্ছে। তারপরও রোগী ভর্তি করেছি। আমরা গরিব মানুষ। ভোলা-বরিশাল যাওয়ার মতো অত টাকা নেই। ভর্তির পর থেকে একদিকে রোগীকে নিয়ে চিন্তা। অন্যদিকে ভবনের পলেস্তরা খসে পড়া দেখে আতঙ্কে রয়েছি। দ্রুত এই ভবন নতুন করে নির্মাণ করা না হলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রোগী ও স্বজনরা হতাহত হতে পারেন।

লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার তাসলিমা বেগম বলেন, হাসপাতালের এই ভবনটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবুও আমাদের নার্স-মিডওয়াইফরা চরম আতঙ্ক নিয়ে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে রোগী ও আমাদের আতঙ্কে সময় কাটে। তাই রোগীসহ আমাদের কর্তব্যরত নার্স-মিডওয়াইফদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দোতলা পুরনো এই ভবনের স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী ওমর ফারুক বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি ভবন। এর মধ্যে একটি দোতলা, আরেকটি তিনতলা। দোতলা ভবন বহু বছরের পুরনো। এরপরও এই ভবনেই চলছে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। দিন যেই যাচ্ছে দোতলা ভবন ততই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। কিছু কিছু স্থান দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে, ফাটল ধরেছে বহু স্থানে। তবুও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে এভাবে খুব বেশি দিন কার্যক্রম চালানো যাবে না। দ্রুত এখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে লালমোহন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মহসীন খান বলেন, ভবনটি অনেক পুরনো হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার মেরামতও করা হয়েছে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, ততই ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি সব দিক বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা