বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৫৫ পিএম
বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। প্রবা ফটো
বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় দেন বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক জেলা জজ বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত মাজেদ তালুকদারের ছেলে কবির তালুকদার, তার ২য় স্ত্রী এলাচী বেগম ও নিহতের মেয়ের জামাই ও এলাচী বেগমের ছেলে সুজন।
সতিনের ছেলে ও মেয়ে জামাই সুজন একই গ্রামের মোস্তফার ছেলে। মামলার বাদী ছিলেন এবং মামলার প্রধান অভিযুক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও নিহত মহিমা বেগমের ছেলে হেলাল তালুকদার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে কবির তালুকদার মহিমা বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। তবে যৌতুকের দাবিতে কবির প্রায়ই স্ত্রী মহিমাকে নির্যাতন করতেন। এছাড়াও মেয়ে রেখা বেগমকে বিয়ে দেওয়ার পর মেয়ের শাশুড়ি এলাচী বেগমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কবির। এর মধ্যে একদিন বাবা ও শাশুড়িকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করেন মেয়ে রেখা। এ ঘটনার পর শাশুড়ি এলাচী বেগম এবং স্বামী সুজন রেখার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে ক্ষোভে রেখা আত্মহত্যা করেন।
এ ঘটনার চার বছর পর মহিমা বেগমের অমতে কবির তার মেয়ের শাশুড়ি এলাচী বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এতে মহিমা বেগমের সঙ্গে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এরপর কবির, এলাচী ও তার ছেলে সুজন মিলে মহিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর সকালে তারা মহিমা বেগমকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নিহতের ছেলে হেলাল তালুকদার বিষয়টি বুঝতে পেরে পাথরঘাটা থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার রায় শুনে বাদী হেলাল তালুকদার বলেন, রায়ে আমি আদালতের প্রতি সন্তুষ্ট। আমি আমার মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি হওয়ায় আইনকে শ্রদ্ধা জানাই।