এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:১৪ পিএম
সাগরে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় জাল মেরামত করছেন জেলেরা। প্রবা ফটো
সাগরে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ। এতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জেলে পল্লীতে কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার জেলে পরিবার। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জাল, নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ সময় বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। এখানকার মানুষের আয়ের উৎস কৃষি ও মৎস্য সেক্টর থেকে হলেও জেলে পেশার ওপর নির্ভরশীল নদী ও সাগরগামী জেলেদের যুগের পর যুগ সংগ্রামী জীবন। পরিবর্তন হয়নি তাদের জীবনযাত্রারমান। বিশেষ করে চিংড়াখালীর পূর্ব চন্ডিপুর পশুরিপাড়া জেলে পল্লী, খাউলিয়ার কুমার খালি, ফাসিয়াতলা, পূর্ব আমতলী, পশুরবুনিয়া বারইখালী জালিয়াঘাটা, কাষ্মির, বলইবুনিয়ার শ্রেণিখালী, পুটিখালীর সোনাখালী, সদর ইউনিয়নের গাবতলা, হোগলাপাশার নাইয়াপাড়াসহ প্রায় ২০টি জেলে পাড়ায় ৮/১০ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। তারা নদী ও সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। অনেকে আবার বাপ দাদার পেশা ধরে রেখেছে।
সাগরে মা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করছেন এসব জেলে পল্লীর জেলেরা। তাদের বছরের অধিকাংশ সময়ই সাগরে কাটে। মহাজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম দাদন নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায় জেলেরা। জালে মাছ বেশি ধরা পড়লে মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করে কিছু টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারে। মাছ না পেলে বছরের পর বছর দেনাগ্রস্ত থাকতে হয় তাদের।
খাউলিয়া ইউনিয়নের ফাসিয়াতলা জেলে পল্লীর আব্দুস সোবাহান গাজি, পূর্ব বরিশাল গ্রামের আব্দুর রহিম হাওলাদার, মন্টু আকন, পূর্ব আমতলীর মোতালেব মাঝি, মাসুদ তালুকদারসহ একাধিক জেলে বলেন, নদীর তীরবর্তী, ফাসিয়াতলা, কুমারখালীসহ ৪টি জেলে পল্লীতে তাদের প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বসবাস। বিএলসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ২০টি ছোট-বড় ট্রলারে কয়েকশ’ জেলে সাগরে ১৫-২০ বছর ধরে মাছ ধরে আসছে। কিন্তু এদের মধ্যে অধিকাংশ জেলে নিবন্ধনের (কার্ড) আওতায় আসতে পারেনি। এছাড়া খাদ্য সহায়তা থেকে বাদ পড়েছে প্রকৃত জেলেদের অনেকে। অনেক অপেশাদার নাম রয়েছে জেলেদের খাদ্য সহায়তার তালিকায়।
তারা আরও বলেন, মাছ ধরা বন্ধের ২২ দিনে সরকারিভাবে মানবিক সহায়তার ২৫ কেজি চালে তাদের সংসার চলছে না। সরকারের প্রতি তারা বিকল্প কর্মসংস্থান, ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা সুদে ঋণ ও খাদ্য সহায়তার বৃদ্ধিসহ প্রকৃত জেলেদের সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান।
খাউলিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিটুল বিশ্বাস বলেন, তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী ৪টি জেলে পল্লী। এদের সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়, তা চাহিদা অনুযায়ী অপ্রতুল। প্রতিটি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তার অর্ন্তভুক্ত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তিনি।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৯ হাজার ৮৫০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে সাগরগামী জেলে ১ হাজার ৭২ জন, ইলিশ মাছ ধরার জেলে ২ হাজার ১২৭ জন, জাটকা ধরা থেকে বিরতকারি ৩ হাজার ৪০০ জন। এসব জেলেদের ৩ ক্যাটাগরিতে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, মোরেলগঞ্জে সাগরগামী জেলেরা সরকারি খাদ্য সহায়তা সুবিধার আওতায় রয়েছে। ২২ দিন অবরোধকালীন প্রতিটি জেলে পরিবারের জন্য ২৫ কেজি করে চালের বরাদ্দ এসেছে। ঝাটকা বিরতকারী ৩ হাজার ৪০০ জেলে পরিবার বছরে ২ বার ১৬০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ইতোমধ্যে মৎস্য অধিদপ্তরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গত বছর ৩২টি বকনা বাছুর দেয়া হয়েছে।