ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ২২:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ২৩:০৪ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর রানাখড়িয়া তরিয়া মহালের খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে ইজারাদার দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় পদ্মা পাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার সাড়ার ৫ নম্বর ঘাটের স্লুইচগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেনÑ সাড়ার ৫ নম্বর ঘাটের ক্যানালপাড়া এলাকার মো. হোসেন গাজীর ছেলে মো. নিজাম (২৬) এবং বাবলু হওলাদারের ছেলে মো. সজিব হাওলাদার (২৫)। গুলিবিদ্ধ দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ৩টার দিকে পাকশী কুষ্টিয়া এলাকার তরিয়া মহলের ইজারাদার মেসার্স এটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসানের লোকজন রানাখড়িয়া তরিয়া মহাল ঘাটে টোল তুলছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ কুষ্টিয়ার গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সহকারী পরিচালক খন্দকার সোহেলের লোকজন নদীপথে একটি স্পিডবোট ও দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সশস্ত্র অবস্থায় ঈশ্বরদীর পাকশী হঠাৎপাড়া নদীঘাটে এসে গোলাগুলি শুরু করে। এ সময় নদী পাড়ের বাসিন্দা সজিব ও নিজাম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা মেহেদী পক্ষের একটি স্পিডবোট ও একটি নৌকা নিয়ে যায়।
এটি এন্টারপ্রাইজের মালিক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান জানান, সোহেল খন্দকারের লোকজন তাদের সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে তরিয়া মহলে এসে খাজনা আদায় করছে। ঘটনার সময় সোহেল খন্দকারের লোকজন তার লোকজনের ওপর গুলি করে। হামলাকারীরা তরিয়া মহলের খাজনা আদায়ের নগদ ৩০-৩৫ হাজার টাকাসহ তাদের একটি স্পিডবোট ও একটি নৌকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
নৌ চ্যানেলের খাজনা আদায়কারী গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সহকারী পরিচালক সোহেল খন্দকার জানান, গত তিন দিন ধরে এটি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের লোকজন পদ্মা নদীতে তাদের সীমানায় খাজনা আদায় করে আসছিল। বারবার প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় অবশেষে আজ এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গোলাগুলির ঘটনায় দুজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নদীতে নৌ-পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।