গণঅভ্যুত্থানের পরও!
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:১১ পিএম
খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে সরকারি আয়োজনে মুজিব দিবসের লোগোসংবলিত লিফলেট বিতরণের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, এভাবে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে উপহাস করা হয়েছে ।
সোমবার (৬ অক্টোবর) বসতি দিবস উপলক্ষে কেডিএ আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেওয়া হয় মুজিব দিবসের লোগোসংবলিত লিফলেট। লিফলেটটি দেখেই অনেকেই বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। কারণ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক বছর পরও সরকারি সংস্থা থেকে পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক নির্লজ্জতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নিদর্শন।
নাগরিক সমাজের সদস্যরা বলেন, এটি কোনো ভুল নয়, বরং পুরনো শাসনের ছায়া টিকিয়ে রাখার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তাদের ভাষায়, একটি সরকারি সংস্থা যখন একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রতীক ব্যবহার করে, তখন সেটা ভুল বলে পাশ কাটানো যায় না। এটা প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর সরাসরি আঘাত।
বিতরণকৃত লিফলেটে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা শাখার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও, পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমি লিফলেট বানানোর কমিটিতে ছিলাম না। তার এমন বক্তব্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। নাগরিকরা প্রশ্ন তোলেন, যে প্রতিষ্ঠানের নাম লিফলেটে ছাপা হলো, তারা কীভাবে বিষয়টি না জেনে দায় এড়াতে পারে?
একাধিক কর্মকর্তার মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি না জানার ভান করেন, আবার কেউ পরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমা চেয়ে দায় শেষ হয় না, প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিক সমাজের সদস্য অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেছেন, যারা লিফলেট প্রিন্টিং, অনুমোদন ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে এমন অপ্রত্যাশিত কাজের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসেন। তিনি বলেছেন, ভুলবশত এই লিফলেটগুলো চলে এসেছে। তারপরও সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। এ ছাড়াও এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার কথা জানান তিনি।