বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৩৮ পিএম
বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রিজ্জাকুল ইসলাম রাজুকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাতকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চকভোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মামলা করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজু নিজ গ্রামের বাড়িতে যান। খবর পেয়ে এসআই মামুন এক কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে সাদা পোশাকে সেখানে যান। রাজুকে হাতকড়া পরানোর পর থানায় নেওয়ার সময় তার স্বজন ও সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তারা রাজুকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয়।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজুকে গ্রেপ্তার না করার আশ্বাসে তিনি এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। পরে সেই আশ্বাস ভঙ্গ করেই শনিবার রাতে রাজুকে গ্রেপ্তার করেন।
চকভোলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, শনিবার রাতে রাজুর বাড়ি থেকে মহিলাদের চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে যাই। দেখি সাদাপোশাকে দুই ব্যক্তি মহিলাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন। পরে জানতে পারি, তারা থানার পুলিশ।
ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া আসামি রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু এখনো পলাতক। তাকে এবং পুলিশের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে এসআই মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।